মার্কিন জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের (NOAA) সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার উত্তরের আলোর Kp সূচক নয়ের মধ্যে চার হতে পারে। এই মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় আলোর উজ্জ্বলতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আকাশে আরও বেশি গতি ও গঠনের দৃশ্য দেখা যেতে পারে। যদিও সংস্থাটির তিন দিনের পূর্বাভাসে মহাকাশের কোনো বিশেষ ঘটনা উল্লেখ নেই, যা সাধারণত দক্ষিণের রাজ্যগুলোতেও এই আলোর দৃশ্যমানতাকে প্রসারিত করে তোলে।

দৃশ্যমানতার সম্ভাবনার মানচিত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তবর্তী কিছু অঞ্চলে সম্ভাবনাকে “কম” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা, মিনেসোটা, উইসকনসিন এবং মিশিগানের উপরের উপদ্বীপের অংশ। তুলনামূলকভাবে আলাস্কার মূল ভূখণ্ডের বেশিরভাগ এলাকা “উচ্চ” সম্ভাবনার আওতায় পড়ে। কিন্তু গ্রীষ্মকালে সেখানে সূর্যাস্ত অত্যন্ত দেরিতে হওয়ায় অন্ধকার পর্যাপ্ত নাও হতে পারে, ফলে দর্শকদের পক্ষে আলোটি দেখার সুযোগ কমে যেতে পারে।

দর্শকদের জন্য NOAA বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যতটা সম্ভব উত্তরের দিকে, বিশেষত উত্তরের কানাডায় অবস্থিত পৃথিবীর চৌম্বকীয় উত্তর মেরুর দিকে যাত্রা করতে। এরপর পরিষ্কার আকাশের দিকে মুখ করা উঁচু স্থানে অবস্থান নেওয়া উত্তম, যেখানে শহরের আলো বা অন্যান্য আলোক দূষণের প্রভাব কম। এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে উত্তরের দিকে তাকালে আলোর রেখাগুলো আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়তে পারে। সাধারণত রাত ১০টা থেকে ২টার মধ্যে এই আলোর সক্রিয়তা বেশি থাকে, তাই এই সময়কে লক্ষ্য করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, স্মার্টফোনের ক্যামেরাতেও উত্তরের আলোর মানসম্মত ছবি তোলা সম্ভব, যদি সঠিক সেটিংস ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। আলোকচিত্রীদের সঙ্গে ট্রাইপড এবং রিমোট টাইমার রাখা প্রয়োজন, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে ডিভাইস স্থির রাখা যায়। পাশাপাশি ডিভাইসের নাইট মোড চালু রাখতে হবে এবং ফ্ল্যাশ বন্ধ করতে হবে। সুযোগ থাকলে RAW ইমেজ ফরম্যাট ব্যবহার করাও উপকারী হবে।