মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ৬০ দিনের সময়সীমা সোমবার শেষ হয়েছে। এর মধ্যেই তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার করছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখা হবে।
জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই পক্ষের ৬০ দিন সময় ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরও আলোচনা কোনো সমাধানে পৌঁছায়নি। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পথ উন্মুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।
বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত এই জলপথটি বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালী দিয়েই পরিবহন করা হয়।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তি চুক্তি না হলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে। তবে ইরানের সর্বশেষ বিবৃতিতে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে সংকট তৈরি হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই অবস্থানের ফলে আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে বলেছিল, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানো সম্ভব হয়েছে, কিন্তু ইরানের বর্তমান বক্তব্য সেই আশা অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কূটনীতিকরা।
তবে ইরান সরকারের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা এখনও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ প্রত্যাহার না হলে সেই প্রচেষ্টা সফল হবে না বলেও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার এই ঘোষণা মূলত মার্কিন প্রশাসনের উপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপ বাস্তবে কার্যকর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়তে বাধ্য।




