মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় অবস্থিত একটি তালা প্রস্তুতকারী কারখানার শ্রমিকেরা বুধবার সকালে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল সরকারি গেজেটে নির্ধারিত হারে বেতন-ভাতা প্রদান এবং অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা। সকাল ১০টা থেকে বেলা পৌনে ১টা পর্যন্ত নবগ্রাম এলাকায় উথলী-পাটুরিয়া সড়কে এই কর্মসূচি চলে, যা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত। এতে উভয় দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ৭ এপ্রিল সরকার ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা এখনো বাস্তবায়ন করেনি। বেতন বৃদ্ধির দাবি জানালে কয়েকজন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে বলে তাঁরা জানান। এ ছাড়া কারখানার কতিপয় কর্মকর্তার দুর্ব্যবহারের কথাও বলেন বিক্ষোভকারীরা। একাধিক শ্রমিক জানান, জীবনযাত্রার খরচ বাড়লেও প্রতিষ্ঠান আগের মতোই কম বেতন দিয়ে যাচ্ছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে। বেতন-ভাতা বাড়ানোর আবেদন করায় উল্টো কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবগ্রাম এলাকায় এক চীনা নাগরিকের মালিকানাধীন হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে চার শতাধিক শ্রমিক কর্মরত। বুধবার সকালে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে নেমে পড়েন। অবরোধের কারণে পাটুরিয়া ফেরিঘাট ও ঢাকামুখী বাস, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানসহ অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী এবং শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়ায় বেলা পৌনে ১টার দিকে শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে পাশে সরে দাঁড়ান। এরপর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল মামুন হোসেন জানান, বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকার নির্ধারিত বেতনের দাবিতে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। আলোচনার প্রতিশ্রুতিতে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক। ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।