বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিমানের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম পুনরায় সমন্বয় করেছে। নির্ধারিত নতুন মূল্য আগামী রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এই ঘোষণা অনুসারে দেশীয় ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের প্রতি লিটারের দাম আগের ১৫০ টাকা ২১ পয়সা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা। ফলে বিমান সংস্থাগুলো জ্বালানি বাবদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে।
বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে মে মাস থেকে মূল্য পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম টানা দ্বিতীয় মাসের মতো হ্রাস পেল। গত মাসে প্রতি লিটারে দাম কমানো হয়েছিল ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা। তারও আগের মাসে দুই দফা সমন্বয়ে মোট ৬১ টাকা ১২ পয়সা দাম কমিয়েছিল বিইআরসি। তবে এর উল্টো চিত্রও দেখা গেছে সম্প্রতি। চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলে দুই ধাপে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যায় ১০৭ টাকা, আর এপ্রিলে আরেক দফায় বাড়ে ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। ধীরে ধীরে এই সংঘাত তেলসমৃদ্ধ গোটা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত লাভ করে। উভয় পক্ষের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা, যার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অত্যন্ত অস্থির হয়ে ওঠে। তবে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে এবং দাম কমার পথে ফিরেছে।
সংঘাত শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশীয় ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। বর্তমান মূল্য এখনো সেই সময়ের চেয়ে বেশি, তবে যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ মূল্যের তুলনায় তা যথেষ্ট কম। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্যও জেট ফুয়েলের দাম হ্রাস করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রতি লিটারের মূল্য ০.৯৮০৮ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ০.৮৫৫৬ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পতনকে প্রতিফলিত করে।
জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব এখন পুরোপুরি বিইআরসির হাতে ন্যস্ত। অতীতে এই দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিলে প্রক্রিয়াটিতে পরিবর্তন আসে। ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তেলজাত পণ্যের দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়। সেই প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে দাম সমন্বয় করে আসছে বিইআরসি। আজকের সমন্বয় তারই একটি অংশ।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় জ্বালানির দাম এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, তবে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরলে দাম আরও কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। এরই মধ্যে টানা দুই মাস দাম হ্রাস বিমান চলাচল খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




