মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের কয়েকটি শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড অবশ্য জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, গতকাল শেষ রাতে বুশেহর ও সংলগ্ন চোগাদাক এলাকা এবং দক্ষিণের শহর কোনারকে একাধিক বিস্ফোরণ শোনা গেছে। বুশেহরে ইরানের একটি পারমাণবিক কেন্দ্র অবস্থিত। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করেনি ইরান। তবে বুশেহরের ডেপুটি গভর্নর এহসান জাহানিয়ান বলেছেন, শহরে শোনা বিস্ফোরণটি বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে ঘটেছে। তিনি আরও জানান, বুশেহরের উপকণ্ঠে একটি সামরিক ঘাঁটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু আঘাত হেনেছে।

সপ্তাহের শুরুর দিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের সূত্রপাত হয়। ইরান বলছে, সব জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছ দিয়ে যেতে বাধ্য করাই তাদের লক্ষ্য। কাতার ও সৌদি আরবের জাহাজসহ একাধিক নৌযান ওমান সীমান্তের কাছে থাকা রুট দিয়ে যাওয়ার সময় ইরানের হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্যরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে তাদের ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেছে এবং সমঝোতা স্মারক শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত ছাড়ও প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। ট্রাম্প তাকে পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনীর সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেছেন। দক্ষিণ ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান লড়াই এখনও শেষ হয়নি এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির মূল ভিত্তি হিসেবে আকাশসীমার ওপর আধিপত্য বজায় রাখাকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।

ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক অভিযান এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। বড় ধরনের অভিযান এখনো সামনে অপেক্ষা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও সরাসরি ভাষণে জানান, আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার ও হুমকি দূর করতে ইরানে আবারও হামলা চালাতে ইসরায়েল প্রস্তুত। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তৃতীয়বারের মতো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সেনাবাহিনী প্রস্তুত।

চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর তাঁর দাফন প্রক্রিয়ার জন্য এ সপ্তাহের কারিগরি আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী সোমবার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচনা শুরু হবে কি না, তা বর্তমান হামলার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসতে না চাওয়ায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি আরও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং যে কোনো মুহূর্তে বৃহত্তর সংঘাত শুরু হতে পারে।