ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বাক্যবিনিময় শুরু হয়েছে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বুধবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্যকে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতার প্রকাশ্য উসকানি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এর আগে বুধবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক গণজমায়েতে বক্তব্য দেন ছাত্রশিবির সভাপতি। সেখানে তিনি বলেন, ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় এবং বিএনপি তার টোকাই বাহিনীর লাগাম না টানে, তাহলে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুললে কোনো ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ১০ মিনিটও দাঁড়াতে পারবে না।
এই বক্তব্যের জবাবে নাছির উদ্দীন ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ছাত্রশিবির সভাপতির ‘প্রতিরোধ করলে ছাত্রদল ১০ মিনিটও ক্যাম্পাসে থাকতে পারবে না’—এই ধরনের মন্তব্য শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের উসকানি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের পুরোটা সময় যারা আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে নিজেদের সংগঠন নিষ্ক্রিয় রেখে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় মিশে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছিল, তাদের আজকের শক্তির আস্ফালন অত্যন্ত হাস্যকর। নাছির উদ্দীনের ভাষ্যে, এখনও তাদের একটি অংশকে আন্ডারগ্রাউন্ডে রেখে বাকি অংশকে সংঘাত সৃষ্টির কাজে নামানো হয়েছে, যা শিক্ষাঙ্গন অস্থিতিশীল করার পুরোনো কৌশলের পুনরাবৃত্তি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক লেখেন, ঢাকা থেকে উসকানি দিয়ে রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামের ক্যাম্পাসগুলোতে সন্ত্রাসী মহড়া ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে তারা বিকৃত উল্লাস করেছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এখন প্রতিরোধ শুরু করেছে এবং আর ছাড় দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ১০ মিনিট নয়, ১০ বছরও নয়, বরং সাদ্দামের মতো আরও ১০-২০ জন সভাপতির মেয়াদ পূর্ণ করেও কিছুই করতে পারবেন না।
ছাত্রদল সংঘাতে বিশ্বাসী নয় বরং শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করে বলে দাবি করেন নাছির উদ্দীন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে লেখেন, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, হুমকি বা উসকানির মাধ্যমে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার যেকোনো অপচেষ্টা শিক্ষার্থীরাই ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি ছাত্রদল ও জকসু-ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।



