ইডাহোর সান ভ্যালি লজে জুলাইয়ের শুরুতেই জমে উঠেছে অ্যালেন অ্যান্ড কোম্পানির বার্ষিক সম্মেলন। একসময় মিডিয়া মোগলদের দখলে থাকা এই জমায়েত এখন প্রযুক্তি জায়ান্টদের পদচারণায় মুখর। ১৯৮৩ সালে যখন প্রথম এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, তখন অতিথি সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ এবং বক্তা ছিলেন মাত্র একজন। কিন্তু চার দশকের ব্যবধানে ছবি পুরোপুরি বদলে গেছে।

বর্তমানে 'বিলিওনিয়ারদের সামার ক্যাম্প' নামে পরিচিত এই সম্মেলনে এবারের অংশগ্রহণকারীদের তালিকা দেখে স্পষ্ট হয়ে যায় কার হাতেই এখন ক্ষমতা। ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান, অ্যাপলের টিম কুক ও আসন্ন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাস, প্যালান্টির অ্যালেক্স কার্প—এরা হলেন এবারের সম্মেলনের মূল আকর্ষণ। পাশাপাশি অ্যামাজনের জেফ বেজস, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, বিল গেটস, লিঙ্কডইনের রিড হফম্যানের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি নেতারাও উপস্থিত রয়েছেন।

অবশ্য মিডিয়া জগতের বড় নামগুলোর উপস্থিতিও লক্ষণীয়। ওয়ার্নার ব্রসের ডেভিড জাসলাভ, ইউটিউবের নিল মোহন, বিদায়ী ডিজনি প্রধান বব ইগার ও তার উত্তরসূরি জশ ডি'আমারো—তারাও এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। তবে এবারের তালিকা থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন ওয়ারেন বাফেট, এলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং ও ট্রাম্প পরিবার।

সম্মেলনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর গোপনীয়তা। কোনো প্রকাশ্য অধিবেশন বা লাইভস্ট্রিম নেই। সাংবাদিকদের জন্য রয়েছে মূল ফটকের কাছে একটি ছোট জায়গা। প্রকৃত বিনিময় ও চুক্তি সম্পাদন হয় হাইকিং ট্রেইল ও ডিনার টেবিলে। ২০১৩ সালে জেফ বেজস এই সম্মেলনেই ওয়াশিংটন পোস্ট কেনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছিলেন। আর ১৯৯৫ সালে ডিজনি ও এবিসি-র একীভূতকরণের ভিত্তিও তৈরি হয়েছিল সান ভ্যালিতেই।

ক্ষমতার এই ধীরগতির রূপান্তর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলছে। আগে প্রযুক্তি ছিল অতিথি, এখন তা মুখ্য বিষয়। ফরচুনের সাংবাদিক ক্যারল লুমিস ২০০৪ সালে এক নিবন্ধে মন্তব্য করেছিলেন যে অ্যালেন অ্যান্ড কোংয়ের প্রায় সবকিছুই অতিথিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি। প্রতিষ্ঠানটি কর্পোরেট নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

সম্মেলনের বাইরেও কিছু রীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। স্থানীয় কর্মীরা এবারও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে, যার মূল সুর ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্য। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বয়েজডেভের খবর অনুযায়ী, প্রতিবাদকারীরা অর্থনৈতিক ন্যায্যতা, কর্পোরেট জবাবদিহিতা ও সম্পদের ব্যবধান নিয়ে তাদের বার্তা তুলে ধরেছেন।

তা সত্ত্বেও, ফ্রিডম্যান মেমোরিয়াল বিমানবন্দরে ব্যক্তিগত জেটের ভিড়, হাইকিং ট্রেইলে চুক্তি সম্পাদন—সবই আগের মতো চলছে। কিন্তু ক্ষমতার ভারসাম্য স্পষ্টতই বদলে গেছে। সান ভ্যালি সম্মেলন যেখানে মিডিয়া মোগলদের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, এখন সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রয়েছে তাদের হাতে, যারা প্রযুক্তি নির্মাণ করছে যা মিডিয়ার ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে।