বিশ্বকাপের শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে টানা জোড়া গোল করে জুড বেলিংহাম নিজেকে ইংল্যান্ডের ‘চিট কোড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁর দুটি গোল দলকে জিতিয়েছে, তার আগে মেক্সিকোর বিপক্ষেও একই কীর্তি গড়েন তিনি। বিশ্বকাপের ছয় ম্যাচের চারটিতেই ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছেন এই ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। একজন মিডফিল্ডারের পক্ষে এক বিশ্বকাপে ছয় গোল করা বিরল, যা তাঁর অসামান্য ফর্মের প্রমাণ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংল্যান্ড দলকে মাঠে বাজানোর জন্য তিনটি গানের নাম দিতে বলা হয়েছিল। বিটলসের ‘হেই জুড’ গানটি তাঁদের পছন্দের তালিকায় ছিল, যা লেখা হয় ৫৮ বছর আগে, বেলিংহামের জন্মের ৩৫ বছর আগে। এই বিশ্বকাপে গানটি যেন বেলিংহামেরই সমার্থক হয়ে উঠেছে, ইংল্যান্ডের ঘরে ঘরে নামটি এখন তাঁর সঙ্গে জড়িত।
বার্মিংহামে তাঁর ফুটবল যাত্রা শুরু। ২০১৯ সালের আগস্টে মাত্র ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে বার্মিংহাম সিটির জার্সিতে অভিষেক হয়। ৪৪ ম্যাচ খেলার পর ২০ মিলিয়ন পাউন্ডে জার্মান ক্লাব ডর্টমুন্ডে পাড়ি জমান। বার্মিংহাম তাঁর ১৭ নম্বর জার্সি তুলে রেখে কিংবদন্তির মর্যাদা দেয়, যা সাধারণত সবার জন্য নয়। ডর্টমুন্ডে দুর্দান্ত সময় কাটানোর পর ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পান। ২০২২ বিশ্বকাপে ইরানের বিপক্ষে গোল করেন, যা একুশ শতকে জন্মানো কোনো ফুটবলারের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। ২০২৪ ইউরোতে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে বাইসাইকেল কিকের গোল ও ‘হু এলস’ উদযাপন সবার নজর কাড়ে।
২০২৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই ১৯ গোল করে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন। কিন্তু কাঁধের চোটে তাঁর ক্যারিয়ারে ছন্দপতন ঘটে, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের সঙ্গেও সম্পর্ক ভালো ছিল না; টুখেল প্রকাশ্যে বেলিংহামের সমালোচনা করেন, পরে অবশ্য ক্ষমা চান। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই গোল করে সব সমালোচনার জবাব দেন। পানামার বিপক্ষেও গোল করেন, তবে সেরাটা রাখেন নকআউট পর্বের জন্য।
নরওয়ে ম্যাচের আগে হলুদ কার্ডের শঙ্কায় ছিলেন বেলিংহাম। পুরো সপ্তাহ তাঁর মা ডেনিস তাঁকে সতর্ক করে গেছেন নিজের ভাষা ও ট্যাকল সামলাতে। ম্যাচ শেষে সেটি স্বীকারও করেন তিনি।
সতীর্থ এলিয়ট অ্যান্ডারসন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘সে ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় কীভাবে থাকে, সেটি বিস্ময়কর।’ নরওয়ের তারকা আর্লিং হলান্ডের মতে, ইংল্যান্ড ভাগ্যবান যে বেলিংহামের মতো খেলোয়াড় পেয়েছে। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার তো বলেই ফেলেছেন, ‘বেলিংহাম ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় হতে পারে।’

