দেশের ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ৫ কোটি ৮১ লাখ তরুণ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ — এই বিপুল জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাদের অংশগ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বুধবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ ও দ্য ন্যাশনাল ইয়ুথ নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তরুণদের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে, যেন তারা কর্মোপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষতা অর্জনের পর প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সহায়তা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এবারের বাজেটে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার সৃজনশীল অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিতে চায় এবং তরুণরাই এর প্রধান অংশীজন হতে পারে। তাদের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা করাকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের রাজনীতি ও মানবাধিকারবিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি জাওয়াদ আজাওয়ি। তিনি বলেন, তরুণদের শুধু উন্নয়ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী হিসেবে না দেখে তাদেরকে উদ্ভাবক, নেতা, অংশীদার এবং পরিবর্তনের প্রতিনিধি হয়ে উঠতে হবে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুযোগ আপনা-আপনি কাজে লাগবে না। বিশেষ করে তরুণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণদের এখনো নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। তাদের অন্তর্ভুক্তি, শেখা, কাজ, অংশীদারত্ব, নেতৃত্ব এবং জীবনকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখার সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা বলেন, আজকের তরুণদের প্রযুক্তি ও কল্পনার শক্তি রয়েছে, তবে সব দায়িত্ব তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। সরকার, শিক্ষা, কূটনীতি, উন্নয়ন সংস্থা ও সুশীল সমাজের সঙ্গে জড়িত সবার দায়িত্ব রয়েছে তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, নিরাপদ পরিবেশ, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করার। পাশাপাশি তাদের ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতাও দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত বলেন, শিশুরা ভবিষ্যৎ, কিন্তু তরুণেরা বর্তমান। তরুণদের নিষ্ক্রিয় সেবাগ্রহীতা হিসেবে দেখতে চান না তারা। তাদের মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করতে কাজ করছেন তারা। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের সোচ্চার প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ফারহানা আক্তার ও তরুণ প্রতিনিধি লিলি প্রু মারমা।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সকালে আয়োজনের সূচনা হয়। উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা নারী নেতৃত্বাধীন নয়টি সংগঠনের স্টল পরিদর্শন করেন।




