বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নির্বাহী হিসেবে পরিচিত অ্যাকসেনচারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুলি সুইট সম্প্রতি ফরচুন ম্যাগাজিনের একটি ভিডকাস্টে অংশ নিয়ে ব্যবসা ও প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সাত লাখ ৭০ হাজার কর্মী পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুইট দাবি করেছেন, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর সঠিক ব্যবহার। তার মতে, বড় বড় কোম্পানিগুলোকে এখন সম্পূর্ণভাবে নিজেদের পুনর্গঠন করতে হবে, অন্যথায় তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না।
সুইট জানান, ফরচুন ৫০০-এর অনেক সিইওর সঙ্গেই তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের মধ্যে আলোচিত শীর্ষ তিনটি বিষয় হলো—শুল্ক ও বাণিজ্যনীতি, বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা একের পর অপ্রত্যাশিত ঘটনা দেখেছি। এখন সিইওদের হাতে এমন শক্তিশালী প্রযুক্তি এসেছে যা আগে ছিল না। কিন্তু এই সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করাও কঠিন ও জটিল।’
প্রযুক্তি জগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাস্তবায়নের সাফল্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সুইট মনে করেন, প্রকৃত সাফল্য পেতে হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের পুরনো কাঠামো ও প্রক্রিয়া ভেঙে নতুন করে সাজাতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লায়েন্টরা প্রায়ই বলে, এআই থেকে তারা তেমন সুবিধা পাচ্ছে না। এর কারণ হলো তারা এআইকে তাদের বর্তমান পদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করছে। অথচ প্রয়োজন পুরো ব্যবসাকেই নতুন করে সাজানো।’
অ্যাকসেনচার নিজেও সম্প্রতি একটি বড় পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে গেছে। সুইট জানান, পাঁচ দশকের পুরনো কৌশল ও কাঠামো বদলে ফেলতে হয়েছে তাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্লায়েন্টদের প্রয়োজন বোঝার পর আমরা বুঝতে পারি, আমাদের কৌশল ও কাঠামোর মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। তাই পুরো প্রতিষ্ঠানটিকেই নতুন করে সাজাতে হয়েছে।’ এই পুনর্গঠনের সময় তিনি প্রথমবারের মতো কোনো লিখিত বার্তা না দিয়ে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে কর্মীদের কাছে পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেন, যা পাঁচ লাখের বেশি কর্মী দেখেছেন বলে তিনি জানান।
নিজের ক্যারিয়ারের গল্প বলতে গিয়ে সুইট জানান, ৪২ বছর বয়সে আইনজীবী থেকে অ্যাকসেনচারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি যখন আইন পেশায় ছিলাম, তখন আমার ভবিষ্যৎ স্পষ্ট ছিল। কিন্তু আমার বাবার মৃত্যুর পর আমি বুঝতে পারি, জীবনে নতুন কিছু করার সময় এসেছে।’ তার মতে, নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় গুণ হলো বিনয় ও শেখার ইচ্ছা। তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সাহায্য চাওয়া। কেউ একা মূল্য তৈরি করতে পারে না।’
ক্যানসারের সঙ্গে দুবার যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা থেকেও তিনি শিক্ষা নিয়েছেন বলে জানান। তার মতে, ‘ক্যানসারের মতো কঠিন সময় জীবনের অগ্রাধিকারগুলো পরিষ্কার করে দেয়। আমি সবসময় নিজেকে প্রশ্ন করি, কাল যদি কিছু ঘটে যায়, তাহলে কি আমার কোনো আফসোস থাকবে?’ এই প্রশ্নটিই তাকে কাজ ও জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সুইটের বড় ভবিষ্যদ্বাণী হলো, আগামী এক দশকের মধ্যে আমরা আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (এজিআই) দেখতে পাব, যা মানুষের চেয়েও বুদ্ধিমান হবে। তিনি বলেন, ‘এটি ভীতিকর হলেও সত্য। তবে আমি আশাবাদী, কারণ কর্পোরেট জগৎ ও সরকারগুলো এই প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভাবছে এবং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিচ্ছে।’




