ওপেনএআই থেকে আট মাসের মাথায় বুধবার পদত্যাগ করেছেন সাবেক গবেষক অ্যান্ড্রু হো। এক্স প্ল্যাটফর্মে তিনি ঘোষণা দেন যে, শীর্ষস্থানীয় এআই ল্যাবগুলোর জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং ডেটাসেট বিক্রির একটি কোম্পানি শুরু করছেন তিনি। পরদিন ভোর ৫টায়, তখনও ঘুম না আসায়, হো সাবেক সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু পরামর্শ পোস্ট করেন: যখন যা পান, তা নিয়ে নিন। শীর্ষ ল্যাবগুলোর মূল্যায়ন বাড়াবাড়ি রকমের বেশি বলে তিনি মন্তব্য করেন। টেন্ডার অফারের মাধ্যমে নগদায়নের সুযোগ পেলে সেটি গ্রহণের জন্য তিনি জোরালো সুপারিশ করেন। তার ভাষ্য, আইপিওর পর মূল্যায়ন দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং ৫০ শতাংশ কমে যাওয়াটাই বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে। ঘুম থেকে ওঠার পর দেখা যায়, তার পোস্টগুলো লাখ লাখ উদ্বিগ্ন মানুষের নজরে এসেছে। কারণ এর আগের দিন নাসডাক ১০০ সূচক করেকশনে চলে গিয়েছিল, প্রযুক্তি খাতে এক বড় ধসের মধ্যে এই পোস্ট পড়ে। সাক্ষাৎকারে হো বলেন, তার কাছে প্রায় ৭ লাখ ডলারের শেয়ার রয়েছে যা আইপিও ও লক-আপ পিরিয়ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিক্রির আইনি অনুমতি নেই। ফলে তিনি আটকে গেছেন বলে জানান। নিজের স্বার্থের বিপক্ষে গিয়েও তিনি প্রকাশ্যে এই মতামত দিচ্ছেন। শিল্পের বেশিরভাগের মতো তিনিও বিশ্বাস করেন যে ইনফারেন্সের চাহিদা নাটকীয়ভাবে বাড়বে, শিগগিরই কম্পিউট সংকট দেখা দেবে এবং ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ জরুরি। তবে তিনি 'প্যারানয়েড' যে সস্তা মডেলগুলোর প্রতিযোগিতার কারণে শীর্ষ ল্যাবগুলোকে ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের একটি দ্রুতগতির চক্রে পড়তে হচ্ছে এবং রাজস্ব কখনোই সেই ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে না। হো আরএসআই বা পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়নের স্বপ্নে বিশ্বাসী নন। বিশ্লেষকরা যাকে 'রেড কুইন্স রেস' বলে থাকেন, সেই পরিস্থিতি বর্ণনা করেন তিনি। সেখানে স্থির থাকতেও দ্রুত দৌড়াতে হয়। প্রতিটি প্রশিক্ষণ চক্রের জন্য শীর্ষ ল্যাবগুলোকে আরও বেশি খরচ করতে হচ্ছে, কিন্তু তা থেকে প্রাপ্ত সুবিধা সাময়িক। মুনশটের কিমির মতো সস্তা প্রতিযোগীরা ডিস্টিলেশনের মাধ্যমে অল্প খরচে ব্যবধান পূরণ করে ফেলে। রাজস্ব নিশ্চিতভাবেই প্রতিটি মডেলের সঙ্গে বাড়বে, কিন্তু কতটুকু? শীর্ষ ল্যাবগুলো বিপুল ঋণ নিচ্ছে, সেখানে সামান্যতম ভুল হিসাবও কোম্পানির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী ও সহকর্মী মনে করেন তারা আরএসআই-এর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। কিন্তু হো মনে করেন গবেষণা মডেলের বুদ্ধিমত্তার কারণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং 'গবেষণা রুচি'র অভাবে। মডেলগুলো পরীক্ষা প্রস্তাব করতে বা কোন ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ তা চিহ্নিত করতে পারে না। সবচেয়ে দ্রুত অগ্রগতি হয়েছে সেই সব ক্ষেত্রে যেখানে ফলাফল যাচাই করা সহজ—গাণিতিক প্রমাণ বা প্রোগ্রাম কম্পাইল করা। কিন্তু যাচাই করা কঠিন, জটিল কাজগুলো এখনো আটকে আছে। এই কারণেই তিনি চলে এসেছেন। সহজে যাচাইযোগ্য ফলগুলো ইতিমধ্যেই কুড়িয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই পরবর্তী অগ্রগতি আসবে আরও জটিল কাজ থেকে—ঠিক সেই ব্যবসাই তিনি শুরু করছেন। তার প্রথম পণ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদী বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে ফোকাস করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি হোকে সিলিকন ভ্যালির প্রচলিত ধারণা থেকে আলাদা করে। তবে ওয়াল স্ট্রিটের সঙ্গেই তার মত মিলে যায়, যেখানে মেটা ও গুগলের শেয়ার দর পতনের পেছনে উদ্বেগ ছিল যে এআই বিনির্মাণে অর্থায়নকারী কোম্পানিগুলো তাদের টাকা ফেরত পাবে না। হো বলছেন, এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে এনভিডিয়া ও মাইক্রন, কারণ তারাই সবার কাছে চিপ বিক্রি করছে। ল্যাবগুলোর জন্য রেড কুইন্স রেস থেকে বেরোনোর দুটি পথ আছে, তবে দুটোই কঠিন: নিজস্ব চিপ তৈরি করে এনভিডিয়ার মূল্য নির্ধারণ ক্ষমতা ভাঙা, অথবা অ্যাপ্লিকেশন লেয়ারে উঠে এসে নিজেরাই পণ্য তৈরি ও বিক্রি শুরু করা। বর্তমানে ল্যাবগুলো তাদের মডেলের অর্থনৈতিক মূল্যের একটি ক্ষুদ্র অংশ ধরে রাখে এবং এই ফাঁকটি খুবই কম পুঁজিকৃত। আপাতত হো তার একদিন পুরনো, এখনও নামহীন কোম্পানির প্রতি ব্যাপক আগ্রহ সামলাতে ব্যস্ত এবং আটকে থাকা ওপেনএআই ইকুইটির কথা না ভাবার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এই ভেস্টেড ইকুইটি তার মোট সম্পদের একটি বিশাল অংশ এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চাপে থাকেন। তবে সন্দেহ করেন তার অধিকাংশ সাবেক সহকর্মী এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না।
৭ লাখ ডলারের শেয়ার ‘অতিমূল্যায়িত’ বলে দাবি সাবেক ওপেনএআই গবেষকের
ওপেনএআই ছেড়ে নিজের কোম্পানি শুরু করা এক সাবেক গবেষক দাবি করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শীর্ষ সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অতিরিক্ত। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের দ্রুত নগদায়ন করা উচিত। আইপিওর পর শেয়ার বিক্রির আইনি বাধায় আটকে থাকা ৭ লাখ ডলারের ইকুইটি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।




