ব্রডওয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনটির পেছনে রয়েছে একটি মৌলিক পরিহাস। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ‘হ্যাডেসটাউন’-এর সরাসরি ধারণকৃত সংস্করণ মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালিত ম্তা নাটকের বক্স অফিস রের্কড ভেঙে দেয়। ২,০০০-এরও কম স্ক্রিনে মুক্তি পেয়ে ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করে ১০.২ মিলিয়ন ডলার, যা ‘হ্যামিলটন’-এর রের্কডকেও ছাড়িয়ে যায়। পরিবেশকরা একে পাঁচ দিনের প্রদর্শনী হিসেবে নির্ধারণ করলেও, মাত্র ৭২ ঘণ্টার মদ্ধ্যে তারা একে অনির্দিষ্টকালের জন্য চালানোর ঘোষণা দেয়। সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে হান্টসভিল, সল্ট লেক সিটি, ইউজিন ও বয়েজ-এর মতো বাজারে, যেখান ব্রডওয়ের কোনো থিয়েটারই নেই।
এই বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে কোনো কর্তৃত্বশীল নির্বাহী নন, বরং এক ভারমন্টের লোকগায়িকা দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কাজ করেছেন এবং প্রতিটি ধাপে তিনি ইচ্ছা করে নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন। ‘হ্যাডেসটাউন’ নামে একজন নইন, তার দল একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপত্য তৈরি করেছে। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে ভারমন্টের বার শহরে এটি প্রথম মন্তরূপে আসে, তখনা এর নাম ছিল ‘আ ক্র্যাক ইন দ্য ওয়াল’। ছোট এক রাজ্য অনুদানে নির্মিত এই আয়োজনে গায়িকা নিজেই মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১০ সালে এটি একটি স্টুডিও অ্যালবামে রূপ নেয়। এরপর ২০১৬ সালে র্যাচেল চাভকিনের নির্দেশনায় এটি অফ-ব্রডওয়েতে মন্ত হয়। পরে এডমন্টন, লন্ডনের ন্যাশনাল থিয়েটার হয়ে ২০১৯ সালে এটি ব্রডওয়েতে পৌঁছায় এবং সে বছরই আটটি টনি পুরস্কার জেতে ও বিনিয়োগ উঠিয়ে নেয়।
প্রতিষ্ঠাতার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলো কোনো ধরণের বিলম্ব ছিল না, ছিল পর্যায়ক্রমিক বাজার পরীক্ষা। প্রতিটি পর্বেই গায়িকা-গীতিকার আনাইস মিটেল তার লালিত কিছু না কিছু ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি অভিনয় করা বন্ধ করেন, নির্দেশনার ভার দেন চাভকিনের ওপর, সঙ্গীত বিন্যাসের দায়িত্ব দেন মাইকেল কর্নি ও টড সিকাফুসকে, আর বাণিজ্যিক পরিকল্পনার দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রযোজক মারা আইজ্যাকসকে। এর ফলে যে প্রতিষ্ঠানটি তৈরি হয়, তা কোনো একক ব্যক্তির বাহন নয়, বরং এমন একটি সংগঠন যার অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠাতা একজন অংশমাত্র। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠাতা-কেন্দ্রীক উদ্যোগ ভেঙে পড়ার পেছনে এই পার্থক্যটিরই ব্যর্থতা দায়ী।
প্রযুক্তি, ভোগ্যপণ্য বা পারিবারিক ব্যবসায়— যেখানেই কোনো একটি সৃজনশীল ধারণাকে কেন্দ্র করে কোনো উদ্যোগ গড়ে ওঠে, সেটি এমন এক সন্ধিক্ষণে পৌঁছায় যখন প্রতিষ্ঠাতাকে কার্যকরী দক্ষতার কাছে মাথা নোয়াতে হয়, নয়তো এক ব্যক্তির সবকিছু করার চেষ্টায় উদ্যোগটি ধসে পড়ে। নিজের পণ্য ভুলও হতে পারে, তা স্বীকার করা প্রতিষ্ঠাতার আত্মপরিচয়ের জন্য একটি বড় ধাক্কা। যারা এই স্বীকৃতি এড়িয়ে যান, তারা আসলে কৌশলগত একগুঁয়েমি নন, বরং আত্মপরিচয় রক্ষা করছেন। আর এর খেসারত বছরের পর বছর ধরে সংসার চালায় বাকি সকলে।
সম্প্রতি এলটন জনের ‘ট্যামি ফায়ে’ এবং দ্য অ্যাভেট ব্রাদার্সের ‘সুইপ্ট অ্যাওয়ে’-এর মতো বড় নামের নাটক কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। এসবের ব্যর্থতা প্রতিভার নয়, প্রাতিষ্ঠানিক স্থাপত্যের ব্যর্থতা। সৃষ্টিশীল প্রতিষ্ঠাতারা মনে করেন, একটি ক্ষেত্রের আধিপত্য অন্য ক্ষেত্রের উপযোগিতার নিশ্চয়তা দেয়, এবং তারা প্রকৃত অপারেটরদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেন। মিটেল সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটেছেন।
লন্ডনে পাঁচজন মূল ব্রডওয়ে অভিনেতাকে নিয়ে ধারণ করা ‘হ্যাডেসটাউন’-এর এই চালচিত্র ওয়ালটার কেরে উদ্বোধনের সাত বছর পর সম্পত্তিটির জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন রাজস্ব দ্বার খুলে দিয়েছে। এই সুযোগ তৈরি হয়েছে শুধুমাত্র ১৯ বছর ধরে এত শক্তিশালী কিছু নির্মাণ করার জন্য যা ক্যামেরাবন্দি করার যোগ্য। যেসব উদ্যোক্তা সর্বপ্রথম মলতানোর জন্য নকশা করেন, তারা স্বভাবতই এমন কিছু নির্মাণ করেন না যা ১৯ বছর পরও আয় করবে। প্রতিষ্ঠাতাদের জন্য এই দর্শন স্পষ্ট: বাজারের চাপে পড়ার আগে, একটি পরিকল্পিত সময়সূচি অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দাও। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠাতা এটি করবেন না। যারা করবেন, তাদের প্রতিষ্ঠানই ২০৪৫ সালেও টিকে থাকবে।




