মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর দারুস সুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসার অভ্যন্তরে শনিবার সকালে একটি পরিত্যক্ত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মাদ্রাসার নিচতলার একটি ঘরের সামনে হঠাৎ এই বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনাটির ফলে সৃষ্ট বিকট শব্দে আশপাশের পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়।
আহত পাঁচ শিক্ষার্থীর মধ্যে মিনাজদী এলাকার সেলিম তালুকদারের কন্যা আবিদা আক্তার (১১) গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। তার হাতে ও পায়ে গুরুতর আঘাতের কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি চার শিক্ষার্থী—পশ্চিম মিনাজদীর ছিরাতুল তালুকদারের মেয়ে জান্নাত (১২), গোপালপুরের রুবেল মাতুব্বরের মেয়ে তাসমিয়া আক্তার (১১), একই এলাকার শাহিন সরদারের মেয়ে মিনহা (১১) এবং আরিফ সরদারের মেয়ে সুলতানা (১১)—মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ওই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা অখিল সরকার প্রথম আলোকে জানান, বোমার আঘাতে আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার হাতে ও পায়ে গুরুতর জখম হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকিদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সকালে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় এসেছিল। মাদ্রাসার ভেতরের নিচতলায় একটি ঘরের সামনে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের পর দ্রুত স্থানীয় লোকজন আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে কালকিনি থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, ঘটনা অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। র্যাব, সিআইডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও মাঠে রয়েছেন।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর-কালকিনি সার্কেল) ফারিহা রফিক প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসার মধ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এটি কেউ নিক্ষেপ করেনি। বস্তুটি জর্দার কৌটা বা অনেকটা টেনিস বলের মতো ছিল। গতকাল শুক্রবার থেকে মাদ্রাসার সিঁড়ির কাছে এটি পড়ে ছিল। হাতে নিয়ে বাচ্চারা নাড়াচাড়াও করেছে। আজ সকালে হঠাৎ বিস্ফোরণে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বোমাটি এখানে কীভাবে এল, তা নিয়ে পুলিশের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে। পুরো মাদ্রাসায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
যে ঘরের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, ওই ঘরে বসবাসকারী ইমন সরদার বলেন, “আমার ঘরের সামনে কীভাবে বোমা বিস্ফোরণ হলো, আমি জানি না।” মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসায় হঠাৎ বোমা বিস্ফোরণে তারা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কীভাবে কী ঘটেছে, তারা কিছুই বুঝতে পারছেন না।




