ইউরোপজুড়ে দাবানলের ভয়াবহতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সোমবার দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির জন্য ১ কোটি ২০ লক্ষ ইউরোর জরুরি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। তবে এর মধ্যেই দাবানল মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
ঘোষণার সময় উপস্থিত কিছু স্থানীয় বাসিন্দা ও নির্বাচিত প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন — দাবানলের আগুন যখন গ্রাম-গঞ্জ গ্রাস করছে, তখন সরকারের এই উদ্যোগ কি যথেষ্ট? এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ধাওয়া ও বাকবিতণ্ডারও সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, দাবানল মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি একেবারেই অপর্যাপ্ত ছিল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর বদলে দেরিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এখনো দাবানলের লেলিহান শিখা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন, ইতালি ও গ্রিসের বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহ ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী তার ঘোষণায় বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে তার এই আশ্বাস সত্ত্বেও স্থানীয় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ দূর হয়নি। অনেকে মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে প্রতি বছরই দাবানলের ঘটনা ঘটছে এবং সরকার শুধু সাময়িক সমাধান দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে দাবানলের মৌসাম এখন আগের চেয়ে দীর্ঘ হচ্ছে এবং এর মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে। এদিকে, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার অভিযোগ তুলেছে এবং দাবি করেছে, আগুন নেভানোর চেয়ে আগে থেকে প্রতিরোধই বেশি জরুরি ছিল।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলিকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে দাবানলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতি যে বিশাল, তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।




