চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে মোবাইল সিমের ওপর থেকে ৩০০ টাকার কর সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে সরকার। এতে রাজস্ব থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ছাড় দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের প্রত্যাশা ছিল, কর অব্যাহতির সুবিধা সরাসরি সিমের খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হবে। কিন্তু বাস্তবে নতুন অর্থবছরের শুরুতেও প্রিপেইড সিমের দাম আগের মতোই ২০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অপারেটরগুলোর দেওয়া মূল্যতালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গ্রামীণফোন তাদের সাতটি ক্যাটাগরির প্রিপেইড সিমের বেশিরভাগই ৪০০ টাকায় বিক্রি করছে এবং একটি বিশেষ সিমের দাম ৪৯৭ টাকা। তাদের পোস্টপেইড সংযোগের মূল্য ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৯৯ টাকা। রবির ওয়েবসাইটে প্রিপেইড সিমের দাম উল্লেখ করা হয়েছে ২০০ টাকা। বাংলালিংকের প্রিপেইড সিম ৪০০ টাকায় এবং টেলিটকের সিম বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিটি সিমের সঙ্গেই নির্দিষ্ট পরিমাণ মিনিট ও ইন্টারনেট ডেটার বান্ডেল প্যাকেজ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
মোবাইল অপারেটর সূত্রগুলো জানাচ্ছে, একটি সিমের পেছনে শুধু চিপ, প্লাস্টিক ও প্যাকেজিংয়ের উৎপাদন খরচই ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এর সঙ্গে যোগ হয় ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার কমিশন, গ্রাহক নিবন্ধন, বিপণন, নেটওয়ার্ক পরিচালনা ও নম্বরপ্রতি লাইসেন্স খরচের মতো নানা আনুষঙ্গিক ব্যয়। একই সঙ্গে, সিমের সাথে দেওয়া ডেটা ও মিনিটের বান্ডেলও অপারেটরদের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করে।
কেন একই বাজারে কোনো অপারেটরের সিম ২০০ টাকা আবার কোনোটি ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়, তার ব্যাখ্যা মেলে ব্যবসায়িক কৌশলে। শীর্ষ অপারেটররা তুলনামূলকভাবে বেশি খরচ করতে আগ্রহী গ্রাহকদের টার্গেট করে সিমের দাম বেশি রাখে। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট অপারেটররা নতুন গ্রাহক আকৃষ্ট করতে কম দামের কৌশল নেয়।
অপারেটর কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহার মানে এই নয় যে তাদের হাতে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা এসেছে। বরং এতদিন তারা যে পরিমাণ ভর্তুকি দিত, সেই ক্ষতির পরিমাণ কমেছে। গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, পুরোনো স্টকের সিম এখনো আগের দামে বিক্রি হচ্ছে, তবে গ্রাহকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের নতুন সিম আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবির চিফ করপোরেট ও রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য শুধু করের ওপর নির্ভর করে না; চিপস, কমিশন ও পরিচালন ব্যয় অপরিবর্তিত থাকায় দাম কমেনি।
বাংলালিংক কিছুটা ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। তাদের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তাইমুর রহমান জানিয়েছেন, তরুণদের জন্য এআইভিত্তিক ‘রাইজ’ সিমের দাম ৩৩ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, বিপুল কর ছাড়ের সুফল ভোক্তারা না পেলে তা বড় ক্ষতি। সরকার অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী মনে করেন, কর প্রত্যাহার বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করবে। তবে আপাতত গ্রাহকদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।



