বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে স্পেন। এই ম্যাচ নিয়ে এক ফুটবল কোচ ও বিশ্লেষকের মতে, স্পেনই এগিয়ে রয়েছে জয়ের পথে। তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিশ্বকাপে দলটির পারফরম্যান্সের বিভিন্ন সূচক যেমন দূরত্ব অতিক্রম, পাসিং পজিশনিং ও কাউন্টার প্রেসিংয়ে আর্জেন্টিনার চেয়ে স্পষ্টতই ভালো অবস্থানে রয়েছে স্পেন। বিশেষ করে বল দখল ও কাউন্টার প্রেসিংয়ের ক্ষেত্রে স্পেনের খেলা অত্যন্ত কার্যকর।

বিশ্লেষক জানান, ইংল্যান্ড বা সুইজারল্যান্ডের মতো দল কিছু নির্দিষ্ট সূচকে আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে ছিল, কিন্তু ফাইনালে সেই জায়গাগুলোতে স্পেন আরও ভালো করতে পারে। বল হারানোর ৬ সেকেন্ডের মধ্যে তা পুনরুদ্ধারের নিয়মে স্পেন অধিকাংশ সময়ই সফল হয়েছে। দলটির বিল্ডআপ খেলায় কিছু নির্দিষ্ট কাঠামো রয়েছে, যা প্রতিপক্ষের পক্ষে সহজে ধরা সম্ভব হয় না। উদাহরণস্বরূপ, আর্জেন্টিনা যদি উচ্চ চাপ প্রয়োগ করে, তবে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজকে ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফার্নান্দেজ মার্ক করলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, তা কাজে লাগাতে পারেন দানি ওলমো।

মাঝমাঠে বিল্ডআপের সময় স্পেনের আকার প্রায় ৩-৩-১-৩ হয়ে যায়, যা তাদের মাঝমাঠে আধিপত্য এনে দেয়। যদিও আর্জেন্টিনার সব সময় চার মিডফিল্ডার থাকে, তবুও ওলমো ও রুইজের অবস্থান পরিবর্তন ও চলাচল স্পেনের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করে। তাদের সঙ্গে রাইট ব্যাক পেদ্রো পোরো ও লেফট ব্যাক মার্ক কুকুরেয়া যোগ দিলে মাঝমাঠে আর্জেন্টিনার ৪-এর বিপরীতে স্পেন ৫ হয়ে যায়। ফলে সহজেই বল প্রতিপক্ষের অ্যাটাকিং থার্ডে নিয়ে যেতে পারে স্পেন, এবং তাদের আকার তখন ৩-২-৫ হয়।

আর্জেন্টিনার রক্ষণে দুই হাফ স্পেস ও দুই উইং ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে স্পেন। ডানে লামিনে ইয়ামাল ও পোরো এবং বাঁয়ে কুকুরেয়া ও আলেক্স বায়েনাকে সামলানো আর্জেন্টিনার জন্য কঠিন হতে পারে। এভাবেই বর্তমান স্পেন দলের খেলার বৈশিষ্ট্য, যা প্রতিপক্ষকে প্রায়ই ধাঁধায় ফেলে দেয়। আগের ম্যাচগুলোতে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনা এই ধাঁধা থেকে বেরোতে পারেনি। ফলে স্পেন আর্জেন্টিনার হাফ স্পেস থেকে প্রচুর কাট ব্যাক বা লো ক্রস করতে পারে।

যদি আর্জেন্টিনা উচ্চ চাপ না দিয়ে মিড ব্লকে অবস্থান নেয়, তবে তাদের আকার ৪-৪-২ থাকে। তখন স্পেনের উইং ব্যাকরা ওপরে চলে যায় এবং মিড ব্লকের দুই লাইনের মাঝখানের জায়গাটি কাজে লাগায়। এই বিশ্বকাপে উভয় দলই সাতটি করে ম্যাচ খেলেছে। বিশ্লেষকের মতে, স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড় প্রযুক্তিগতভাবে আর্জেন্টাইনদের চেয়ে এগিয়ে। শারীরিকভাবেও তারা অনেক বেশি দ্রুতগতিসম্পন্ন ও চটপটে, এবং তাদের কাছ থেকে ট্যাকল করে বল কেড়ে নেওয়া কঠিন।

গত চার বছর ধরে স্পেন নিজেদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভাবার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে কোচ দে লা ফুয়েন্তের অধীনে। তবে স্পেনের একটি দুর্বলতা হলো লো ব্লক সহজে ভাঙতে না পারা, যা কেপ ভার্দে ও পর্তুগালের বিপক্ষে দেখা গেছে। আর্জেন্টিনা লো ব্লকে গেলে স্পেন তখন উইং প্লে ও বিহাইন্ড দ্য ব্লক খেলতে পারে।

আর্জেন্টিনার মূল শক্তি হলো তাদের জেতার মানসিকতা। বিশ্লেষকের মতে, এই মানসিকতা ভাঙার একমাত্র উপায় হলো স্পেনের বেশি বেশি কাউন্টার প্রেসিং করা। মেসিকে আটকাতে অন্য দলগুলো সফল হয়নি, তবে রদ্রি ম্যান ও জোনাল মার্কিংয়ে পারদর্শী হওয়ায় তিনি মেসিকে নিষ্প্রভ রাখতে পারেন। যদি রদ্রি ব্যর্থ হন, তবে রুইজ তাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকবেন। এসব কারণেই বিশ্লেষক মনে করেন, আজ স্পেনই জিতবে।