বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এর জেরে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোতে আগামীকাল শুক্রবার থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু উপকূলই নয়, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী রোববার থেকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং আগামী সপ্তাহজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
সাগরে এই পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। তবে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এবার তেমন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। গত মাসের শুরুতে যে প্রবল বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেরকম আশঙ্কা এখন নেই বললেই চলে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, নিম্নচাপটির প্রভাবে আগামীকাল খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টি আগামীকাল থেকে বাড়তে পারে, তবে রোববার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি বাড়ার কথা। আগামী সপ্তাহজুড়ে দেশের নানা প্রান্তে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন, সাথে ছিল ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। তবে দুপুরের দিকে আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঠে আসে। এ সময় রাজধানীতে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবুল কালাম মল্লিকের মতে, রাজধানীতে আগামীকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে এবং শনিবার কিছুটা বৃষ্টি হতে পারে, তবে রোববার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
আজ দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারে, যেখানে ১৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একইসাথে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ বেলা ৩টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য এই সংকেত জারি করা হয়।
নিম্নচাপটি আজ সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করছিল। এটি মূলত একটি স্থল নিম্নচাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, যার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যাবে না। তবে এর প্রভাবে আগামী দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। আর রোববার থেকে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার নদীগুলোর পানিও বাড়তে শুরু করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।




