কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের রচনা বা অ্যাসাইনমেন্টে জালিয়াতির পথ বন্ধ করতে যাচ্ছে নতুন এক প্রযুক্তি। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক তাদের তৈরি এআই মডেল ‘ক্লড’-এ একটি অদৃশ্য ডিজিটাল জলছাপ যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো লেখা এআই দিয়ে তৈরি কিনা, তা খুব সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।

অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, ক্লডের মাধ্যমে লেখা তৈরি হলে তাতে অদৃশ্য কিছু সংকেত তৈরি হবে। এই সংকেত লেখাটি কপি করে অন্য কোথাও পেস্ট করলেও মুছে যাবে না এবং একটি বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তা শনাক্ত করা যাবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে লেখার গুণমান বা অর্থের কোনো পরিবর্তন হবে না। বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের কাজ মূল্যায়নে শিক্ষকদের বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে নতুন এই প্রযুক্তি সরাসরি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউরোপের নতুন প্রযুক্তি আইন মেনে বিশ্বজুড়ে সব দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার চালু করছে অ্যানথ্রোপিক। তবে শুধু অ্যানথ্রোপিক নয়, ওপেনএআই ও গুগলের মতো শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোও নিজ নিজ এআই মডেলে এই ধরনের শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার কাজ করছে। ছবি তৈরির ক্ষেত্রেও ইতিমধ্যে তারা বিশেষ অদৃশ্য সংকেত ব্যবহার শুরু করেছে।

তবে এই উদ্যোগ নিয়ে নানা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এআই প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নিজেরাই সমস্যা তৈরি করে তার সমাধান বিক্রি করে ব্যবসা করছে। অন্যদিকে, নিয়মিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে সংশয় রয়েছে—কাঁচা লেখা ঠিকঠাক করার জন্য এআই ব্যবহার করলে ভুলবশত তা সম্পূর্ণ এআই-নির্মিত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যানথ্রোপিক স্পষ্ট করেছে, এই প্রযুক্তি মূল লেখার প্রক্রিয়ায় এআইয়ের উপস্থিতি শনাক্ত করবে, যা জালিয়াতি রুখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কাজে লাগবে।