ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া বিক্ষোভ থেকে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত পাঁচ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে গুন্ডা দমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শনিবার রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই আইনে এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা পরবর্তী তিন প্রজন্ম মনে রাখবে।

শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল কয়েকটি বামপন্থী ছাত্রসংগঠন এবং ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই মিছিলে অংশ নেন অনেকে। অভিযোগ, ধর্মতলার ডরিনা ক্রসিংয়ে পৌঁছালে একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় এবং সাংবাদিকদের দিকে জুতা ও বোতল নিক্ষেপ করে। এতে ছয়জন সাংবাদিক আহত হন, যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বলেন, দুষ্কৃতকারীরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠিপেটা করুক এবং অশান্তি ছড়িয়ে পড়ুক। তবে পুলিশ সেই ফাঁদে পা না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। শুক্রবারের মিছিল থেকে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এদের কেউই প্রকৃত ছাত্র বা ককরোচ পার্টির সদস্য নন বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এরা রাজাবাজার, খিদিরপুর, একবালপুর ও ওয়াটগঞ্জের দুষ্কৃতকারী বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

চিহ্নিত পাঁচ ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, তারা হলেন আফরোজ, নাহিদ, তানভীর, নিজাম ও রাহুল জামাল। তিনি আরও বলেন, ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি না হয়, তাহলে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে বোতল বা জুতা নিক্ষেপও রাজ্যের সংস্কৃতি হতে পারে না। ঘটনায় দায়ের করা সাতটি মামলার মধ্যে পাঁচটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং একটি পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিতর্কিত অ্যান্টি-গুন্ডা বিল পাস হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।