রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার তৈরি একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটকে নিজ দেশের পশ্চিমাঞ্চলে স্থাপন শুরু করেছে। এই ইউনিটে সম্ভবত ছয়টি উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং প্রায় ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে মস্কো উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। তবে এবার সরাসরি একটি সম্পূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট রাশিয়ায় মোতায়েন হলে তা মস্কো এবং পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইউক্রেনের প্রধান গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আন্দ্রি চেরনিয়াক জানান, প্রায় ৯০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই ইউনিটটি রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের ভোরোনেজ অঞ্চলে স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ৪০টি কেএন-২৩ এবং কেএন-২৪ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে। এই নতুন ইউনিটে আরও ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি উৎক্ষেপণ যন্ত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রব লি মনে করেন, রাশিয়াকে উত্তর কোরিয়ার এই সমর্থন ইউক্রেনের জন্য একটি বড় হুমকি। তাঁর মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা বর্তমানে ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা, কারণ কিয়েভের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

এই সংকটের মধ্যেই গত বুধবার কিয়েভ ও তার আশপাশের এলাকায় রুশ বাহিনী হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই হামলায় কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।