দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে ভুট্টা থেকে তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমআরটি অ্যাগ্রো বর্তমানে গুরুতর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কাছে ২০ লাখ লিটার ভুট্টার তেল সরবরাহের চুক্তি থাকলেও ১০ শতাংশ ভ্যাটের জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রায় থমকে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে বাজারে ভুট্টার তেলের দাম লিটারে ১৯০ টাকা, কিন্তু উৎপাদন খরচ ১৭০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি লিটারে প্রায় ২০ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে চুক্তির ১৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৩ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বিল পরিশোধের সময় প্রতি লিটারে সাড়ে ১৭ টাকা ভ্যাট কাটার কথা জানতে পেরে প্রতিষ্ঠানটি হতবাক। এতে প্রতি লিটারের কার্যকর মূল্য দাঁড়ায় ১৫৭ টাকা, যা উৎপাদন খরচের চেয়েও কম। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পামওয়েলের বাজার মূল্য লিটারে ১৮৫ টাকা হওয়ায় এ মূল্যে ভুট্টার তেল সরবরাহ করা আর্থিকভাবে অসম্ভব। তাই রাইস ব্রান ও শর্ষে তেলের মতো ভুট্টার তেলকেও ভ্যাটমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তারা। এ ব্যাপারে শুধু এমআরটি অ্যাগ্রো নয়, বরং টিসিবি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও গত ২০ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ করে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে। টিসিবির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ভ্যাট প্রত্যাহার করলে দেশি শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। অপরদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে দেশে উৎপাদিত তেলের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের বিষয়ে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। তবে এনবিআরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, বাজেট পেরিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এমন ছাড় দেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, বাজেটের সময় অনেক সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হয়, কিন্তু এখন সেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম ভুট্টার তেলের পুষ্টিগুণের কথা উল্লেখ করে বলেন, এতে সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সমান। বিপণন ব্যবস্থা উন্নত হলে পণ্যটির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্যার সমাধান না হলে দুই মাসের মধ্যে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হবেন এবং আমদানি নির্ভরতা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।