প্রযুক্তির উৎকর্ষের ফলে বর্তমানে স্মার্ট গ্লাস এবং মোবাইল ফোনের ক্যামেরা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। এর সুবাদে যেকোনো সাধারণ পথচারী, ক্যাফেতে বসা ব্যক্তি বা অফিসকর্মী — কেউই আর নিশ্চিত নন যে তাঁর ছবি বা ভিডিও কারও ডিভাইসে বন্দি হয়ে যাচ্ছে না। সম্মতি ছাড়াই এমন সব গোপন রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা অনেক সময় ব্যক্তির জন্য অপমানজনক কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।
তবে আইনের খাতায় এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইনি কাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে অনুমতি ছাড়া রেকর্ড করা বা তা প্রকাশ করার ফলে যে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়, তার জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়া কার্যত কঠিন।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে মনে করছেন, ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়াই এখন আপাতত একমাত্র বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। কোনো রেকর্ডিং ভাইরাল হলে যদি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয় এবং তারা সেই ব্যক্তি বা পেজকে বয়কট করে, তাহলে সেটি কিছুটা হলেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে এই অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাও সব সময় কার্যকর নয়। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে চুপ করে থাকতে হয় কারণ আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং ফলাফল অনিশ্চিত। তাছাড়া প্রযুক্তির ব্যবহার করে যে কেউ সহজেই অপরের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে পারে এবং শেয়ার করার মুহূর্তেই তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যার সমাধানে নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।




