ভাদ্রের সূচনালগ্নে বর্ষার মেঘের ঘনঘটা ক্রমশ কেটে যাওয়ায় সন্ধ্যার আকাশ পরিষ্কার ও ধূলিকণামুক্ত হয়ে উঠছে। এর ফলে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণের জন্য বিরল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সন্ধ্যার পর আকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে একাধিক আকর্ষণীয় মহাজাগতিক ঘটনা। এই প্রায় দুই সপ্তাহে পশ্চিম দিগন্তে শুক্র গ্রহের উজ্জ্বল উপস্থিতি, পারসেইড উল্কাপাতের অবশিষ্টাংশ, কৃষ্ণাংশের চাঁদ এবং গ্রীষ্মকালীন নক্ষত্রপুঞ্জের স্পষ্ট অবস্থান রাতের আকাশকে করে তুলবে বিশেষভাবে দর্শনীয়।

সূর্যাস্তের পরপরই সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে ৭টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পশ্চিম থেকে উত্তর-পশ্চিম দিগন্তের কিছুটা উপরে খালি চোখেই দেখা যাবে সবচেয়ে উজ্জ্বল সন্ধ্যাতারা। আগস্টের শেষ দিকে শুক্র গ্রহ দিগন্তের আরও নিচে নেমে যাবে, তাই এটি দেখার জন্য সূর্যাস্তের আধঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম দিকে বাধাহীন উঁচু স্থানে দাঁড়ানো প্রয়োজন। ঢাকার আলোদূষণপূর্ণ পরিবেশেও এই গ্রহের হীরার মতো চমক খালি চোখে ধরা পড়বে।

১৬ আগস্টের পর চাঁদ ক্ষীয়মাণ দশায় প্রবেশ করায় মাসের শেষার্ধে এটি মূলত মধ্যরাত বা ভোরের দিকে উদিত হবে। ফলে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ চাঁদমুক্ত ও অন্ধকার। এই অন্ধকার আকাশে বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ দিয়ে গ্যালাক্সি, তারাগুচ্ছ ও নেবুলা পর্যবেক্ষণের সেরা সুযোগ তৈরি হবে। ২৮ ও ২৯ আগস্ট অমাবস্যার নিকষ কালো রাত প্রত্যাশা করা যাচ্ছে। এরপর ৩০ ও ৩১ আগস্ট সন্ধ্যায় পশ্চিম দিগন্তে শুক্রের ঠিক নিচে দেখা যাবে অতি সরু সুতার মতো নতুন বাঁকা চাঁদ।

বিখ্যাত পারসেইড উল্কাপাতের মূল সর্বোচ্চ সক্রিয়তা ১২ ও ১৩ আগস্ট পার হয়ে গেলেও ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এই উল্কাপাত সক্রিয় থাকবে। ১৬ থেকে ২২ আগস্টের মধ্যে সন্ধ্যার পর উত্তর-পূর্ব আকাশে মাঝে মাঝে উজ্জ্বল ফায়ারবল বা ছুটে যাওয়া উল্কা দেখা যেতে পারে। এই সময় আকাশে চাঁদের আলো না থাকায় বিক্ষিপ্ত উল্কাগুলো আগস্টের শুরুর তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্ট ও তীব্র দেখাবে।

আগস্টের শেষার্ধে রাত ৮টার পর আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে মাথার ঠিক ওপরে রাজত্ব করবে বিখ্যাত সামার ট্রায়াঙ্গেল। লাইরা নক্ষত্রপুঞ্জের ভেগা, অ্যাকুইলা নক্ষত্রপুঞ্জের আলটায়ার এবং সাইগনাস নক্ষত্রপুঞ্জের ডেনেব — এই তিন উজ্জ্বল তারা মিলে গঠিত বিশাল ত্রিভুজটি সন্ধ্যার আকাশে সবচেয়ে উঁচু অবস্থানে থাকবে। দক্ষিণ আকাশে লালচে অ্যান্টারেসসহ বৃশ্চিক নক্ষত্র এবং চায়ের কাপের মতো দেখতে ধনু নক্ষত্র স্পষ্ট দৃশ্যমান হবে। শহরের বাইরে আলোকদূষণহীন গ্রামে গেলে ধনু রাশির পাশ দিয়ে বিস্তৃত মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির উজ্জ্বল কেন্দ্রটিও খালি চোখে দেখা সম্ভব।