আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট কি কারও দখলে চলে গেছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে কিছু নির্দিষ্ট সংকেতের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি বড় সতর্কতা চিহ্নের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো দেখলেই বুঝতে হবে আপনার মেসেজিং প্ল্যাটফর্মটি হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

প্রথম সংকেত হলো অ্যাকাউন্ট থেকে অপরিচিত ডিভাইসে কার্যকলাপের খবর পাওয়া। যদি এমন কোনো কম্পিউটার বা মোবাইলের সক্রিয়তা আপনার অ্যাকাউন্টে দেখা যায় যা আপনি কখনও ব্যবহার করেননি, তবে সেটি বড় একটি বিপদবার্তা। দ্বিতীয়ত, আপনার প্রোফাইলের ছবি, স্ট্যাটাস বা 'শেষবার অনলাইন' হওয়ার তথ্য যদি নিজে থেকে পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং আপনি সেটি না করে থাকেন, তাহলে বুঝতে হবে কেউ অনধিকার প্রবেশ করেছে। তৃতীয় লক্ষণটি হলো বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে সন্দেহজনক বার্তা প্রাপ্তির অভিযোগ আসা—যেমন আপনার নামে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার মেসেজ, যা আপনি পাঠাননি।

হ্যাকাররা বিভিন্ন উপায়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারে। সবচেয়ে প্রচলিত কৌশল হলো ভেরিফিকেশন কোড চুরি। কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংস্থার ছদ্মবেশে ফোন করে বা মেসেজ দিয়ে ছয় অঙ্কের সেই কোড হাতিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া, ফিশিং লিংকের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলা হয়। অসতর্কভাবে কোনো লিংকে ক্লিক করলেই ম্যালওয়্যার আপনার ডিভাইসে প্রবেশ করে তথ্য পাচার করতে পারে। পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারও একটি বড় ঝুঁকি, কারণ এর মাধ্যমে ডেটা সহজেই লুপ্ত হতে পারে।

আপনার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রথমেই টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে নিতে হবে, যা একটি অতিরিক্ত পিন কোডের মাধ্যমে সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। কোনো লিংক বা ফাইল ডাউনলোড করার আগে তা বিশ্বস্ত উৎস থেকে এসেছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে হবে। কখনোই কারও সঙ্গে ভেরিফিকেশন কোড শেয়ার করা উচিত নয়। সর্বোপরি, নিয়মিত লিংকড ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করে অচেনা ডিভাইস লগ আউট করে দেওয়া আবশ্যক। সতর্কতা ও এই করণীয়গুলো মেনে চললে হ্যাকারদের কবল থেকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যমটি নিরাপদ থাকবে।