যুক্তরাষ্ট্রের ভার্মন্ট অঙ্গরাজ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যা অন্যান্য রাজ্যের অনুরূপ আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আইনটির কেন্দ্রীয় দাবি হলো, এআই-উৎপাদিত যেকোনো মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ একজন পেশাদার থেরাপিস্টের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই বিধান সত্ত্বেও থেরাপিস্টরা ধীরে ধীরে স্বয়ংক্রিয়তা পক্ষপাতিত্বের শিকার হতে পারেন এবং এআইয়ের দেওয়া পরামর্শ যাচাই না করেই ‘রাবার স্ট্যাম্পিং’-এর মতো হুবহু অনুমোদন দিতে শুরু করতে পারেন।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের প্রযুক্তি কলামিস্ট ল্যান্স এলিয়ট তার বিশ্লেষণে এই আইনকে এই উদীয়মান ক্ষেত্রের একটি প্রতিনিধিত্বমূলক উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সময়ের সাথে সাথে একজন থেরাপিস্ট যখন দেখবেন যে একটি নির্দিষ্ট এআই সিস্টেম বারবার সন্তোষজনক পরামর্শ দিচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি গভীরভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা কমিয়ে দেবেন। কাজের চাপ ও সময়াভাবও এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এর ফলস্বরূপ, এআই যখন দুর্লভ কোনো ক্ষেত্রে বিপথগামী বা ক্ষতিকর পরামর্শ দেবে, তখন তা থেরাপিস্টের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাঁচশোটি পরামর্শের মধ্যে মাত্র পাঁচটি ভুল ধরতে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ পাঁচজন ব্যক্তির জন্য সম্ভাব্য ক্ষতিকর পরিণতি, যেটি মানবিক তদারকির মূল চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বর্তমান আইনগুলোর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, পর্যালোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি ঠিক কীভাবে সম্পন্ন করতে হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত নির্দেশনা না থাকা। এলিয়ট প্রশ্ন তোলেন, থেরাপিস্ট কি সম্পূর্ণ চ্যাট লগ পড়বেন, নাকি সারাংশ দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন? অনুমোদনের নথিপত্র কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে? আদালতে এ ধরনের মামলা গেলে এই অস্পষ্টতাই জটিলতা তৈরি করবে। আরেকটি গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো, থেরাপিস্টরা নিজেরাই হয়তো এআই ব্যবহার করে পর্যালোচনার কাজটি সারবেন, যার অর্থ এআই নিজেই নিজের পরামর্শকে অনুমোদন করছে। এটি একটি বিপজ্জনক চক্র তৈরি করতে পারে।

এই আইনের প্রেক্ষিতে দায়িত্ব নিয়ে আঙুল তোলার একটি জটিল পরিস্থিতিরও অবতারণা হতে পারে। এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তি দিতে পারে যে, যদি তাদের প্রযুক্তি ত্রুটিপূর্ণ পরামর্শ দিয়েও থাকে, তবে তা ধরার দায়িত্ব ছিল পর্যালোচনাকারী থেরাপিস্টের; সুতরাং দোষ তাদের নয়। অন্যদিকে, থেরাপিস্টরা বলতে পারেন, ভুল পরামর্শ দেওয়া থেকে এআইকে বিরত রাখার প্রাথমিক দায়িত্বটি নির্মাতারই। এই পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি উভয় পক্ষকেই দায় এড়ানোর সুযোগ করে দিতে পারে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনি জটিলতার মধ্যে পড়বেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন, ২০২৬-এ স্বাক্ষরিত হয়ে আইনে পরিণত হওয়া ভার্মন্টের এইচ.৮১৬ (অ্যাক্ট ১৫৬) আইনটি “মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ” বিষয়ক। আইনটিতে একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের পর্যালোচনা ও অনুমোদন আবশ্যক করা হয়েছে। ইলিনয়, নেভাদা ও ইউটাহ রাজ্যও এর আগে একই ধরনের আইন পাস করেছে। এলিয়ট অবশ্য কলোরাডোর একটি আইনের কড়া সমালোচনা করেছেন, যেখানে থেরাপিস্টকে রিয়েল-টাইমে এআইয়ের সাথে যুক্ত থেকে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। ভার্মন্টের আইনে এতটা কঠোর শর্ত না থাকায় তিনি একে তুলনামূলকভাবে ‘সাধারণ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজ্যভিত্তিক এসব আইনের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। ফেডারেল পর্যায়ে একটি সর্বব্যাপী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ এখনও সফল হয়নি। ভবিষ্যতে যদি ফেডারেল আইন আসে, তবে তা রাজ্যগুলোর আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে এক আইনি জটিলতার সুনামি তৈরি করতে পারে বলেও এলিয়ট তার কলামে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তবে আপাতত, থেরাপিস্টদের পেশাদারি সততা রক্ষা ও এআইয়ের কুপ্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আরও বিস্তারিত ও দৃঢ় আইনি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে সামনে এসেছে।