দীর্ঘ বিরতির পর সোজা কোর্টের নিচে কমলাকান্তের দেখা পাওয়া গেল। একটি আইফোন চার্জে রেখে, কানে এয়ারপড লাগিয়ে তিনি ভেপ টানছিলেন। প্রসন্ন গোয়ালিনী গরু চুরির যে অভিযোগ এনেছেন, তাতে সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়েছেন কমলাকান্ত। আদালতের কাটরায় ঢুকেই তিনি এক রহস্যময় হাসি হাসলেন। কর্তব্যরত পুলিশ ধমক দিয়ে শপথ নিতে বললেন।

মুহুরি যখন শপথবাক্য পাঠ করাতে শুরু করলেন, ‘যাহা বলিব সত্য বলিব, সত্য বই মিথ্যা বলিব না,’ তখনই কমলাকান্ত আপত্তি তুললেন। তার বক্তব্য, পুরো বাক্য না বলে শুধু ‘এনজিএল’ বলে শেষ করা কি অসম্ভব? বাদিনীর আইনজীবী এতে বিরক্ত হয়ে তাকে অপ্রাসঙ্গিক কথা না বলে আইন-শৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশ দেন। কমলাকান্ত তখন আইনজীবীর পোশাক দেখে তাকে আইনজীবী হিসেবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেন যে, উনি নাকি টাকা পেলে অবস্থা পরিবর্তন করতে পারেন। অভিযোগ শুনে আইনজীবী আদালতের সুরক্ষা চান। জাজ তখন ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘সে তো আপনারই সাক্ষী। অপছন্দ হলে লাথি মারেন, সহজ সমাধান।’ পরে জাজের নির্দেশে তাকে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিজ্ঞার পাঠ দেওয়া হয়, যাতে বলা ছিল ‘কোনো সত্য গোপন করব না।’ কমলাকান্ত রাজি হয়ে যান।

জেরা শুরুর আগে আইনজীবী কমলাকান্তকে শুধু প্রশ্ন অনুযায়ী জবাব দেওয়ার আদেশ দেন। এই নিয়ে তিনি জাজের কাছে প্রশ্ন করেন যে, কিছুক্ষণ আগেই তিনি সব সত্য প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু এখন আইনজীবী তাকে শুধু নির্দিষ্ট জবাব দিতে বলছেন। পরবর্তীতে জালিয়াতির অভিযোগ যেন না তোলা হয়, সে ব্যাপারেও তিনি সতর্ক করে দেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার নাম, বাবার নাম, জাত ও বয়স জানতে চাইলে কমলাকান্ত নানা অপ্রাসঙ্গিক উত্তরে পরিস্থিতি জটিল করে তোলেন। তিনি নিজেকে ভ্রাম্যমাণ পর্যটক দাবি করেন, যার কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই।

পেশা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে এড়িয়ে গিয়ে শেষে ‘ভবঘুরে’ লেখার পরামর্শ দেন। আয়ের প্রশ্নে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব বলে বর্ণনা করেন। এক পর্যায়ে আইনজীবী ক্লান্ত হয়ে তার পেশায় ‘ভিক্ষুক’ লেখাতে বললে কমলাকাস্ত ক্ষুব্ধ হন এবং জোর দিয়ে বলেন যে তিনি কখনও কারও কাছে এক টাকাও ভিক্ষা চাননি। মূল ঘটনায় ফিরে গোয়ালিনীকে চেনার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসন্ন গোয়ালিনী বলে ওঠেন যে তার দুধ-দই বিনামূল্যে খাওয়া সত্ত্বেও এখন অস্বীকার করা হচ্ছে। কমলাকাস্ত তার পাল্টা জবাবে বলেন, সেই ঘন দুধ দেখেই তার ব্যবসা বোঝা যায়। গরু চুরির ঘটনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এ নিয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই, এবং নিজের শৈশবের একটি পুরনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমানের কোনো মিল নেই বলে জানান।

তবে সবচেয়ে জটিল পরিস্থিত সৃষ্টি হয় যখন বিচারক তাকে বাইরে থাকা গরু দেখিয়ে সেটি চেনার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। ‘একটি গরু’ বলতে কমলাকাস্ত বলেন তিনি অনেক গরু দেখছেন। বিচারক যখন আইনজীবীর কালো ক্যাপের সঙ্গে মিলিয়ে কালো রঙের গরুর কথা বলেন, কমলাকান্ত জিজ্ঞেস করেন ক্যাপটিও নাকি চুরি। সময় অপচয়ের অপরাধে রাগান্বিত জাজ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেন। এতে কমলাকাস্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিদ্রূপ করেন যে, জরিমানা আদায় করতে পরকালীন প্রতিনিধি পাঠাতে হতে পারে। জরিমানা অনাদায়ে লকারে বন্ধ করার হুমকিতে তিনি এক মাসের বদলে দুই মাসের জেল ভিক্ষা চান, যাতে খাওয়ার টেনশন না থাকে। তার এই আজবুক্তি যুক্তিতে বিচারক শেষ পর্যন্ত হাসতে হাসতে জরিমানা মওফ করেন এবং তাকে চলে যাওয়ার অনুমতির দেন। কমলাকাস্ত এরপর চিল মোডে ভেপ টানতে টানতে বেরিয়ে যান।