ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে মার্কিন অস্ত্র মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) বিশ্লেষণ অনুসারে, গত এপ্রিলে ইরানের সাথে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামার আগে পেন্টাগন তার থাড (থিয়েটার হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অর্ধেকের বেশি, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ভূমি-আক্রমণ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ নিক্ষেপ করেছে। এই তথ্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই অস্ত্র মজুদ হ্রাস ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সিএসআইএস-এর প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ানের মতে, বিগত কয়েকদিনের মতো একই গতিতে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুদ এতটাই কমে যাবে যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উচ্চমাত্রার ঝুঁকির সৃষ্টি হবে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা বিভাগের প্রধান মাইকেল ও’হ্যানলন স্বীকার করেছেন, বর্তমান মজুদের পরিমাণ প্রত্যাশার চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে।

সংকটের আরেকটি দিক হলো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের ধীর গতি। সিএসআইএস-এর হিসাব বলছে, বর্তমান সরবরাহ চক্র অনুযায়ী পেন্টাগন প্রতি মাসে মাত্র ১৫টি টমাহক ও ২০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালের জন্য থাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কোনো পরিকল্পনাই নেই। এই ধীর গতিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ফিরতে তিন বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে, যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে হোয়াইট হাউস সম্পূরক তহবিলের জন্য কংগ্রেসের কাছে আবেদন জানালেও তা পাস করা অনিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ জন ফেরারি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাটতি দূর করতে কংগ্রেস কোনো অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করেনি। ফলে এই সংকট কেবল স্বাভাবিক বার্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধানের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিক্রিয়ায় পেন্টাগন উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত জুনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট (প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন) কার্যকর করেন এবং নির্মাতাদের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরবরাহ চেইনের সক্ষমতা বাড়াতে এবং দ্রুত উৎপাদন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

তবে, মার্ক কানসিয়ানের মতে, উৎপাদন আইন কার্যকর করা সহায়ক হলেও এর প্রভাব সীমিত। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট সময় লাগবে এবং ততদিন পর্যন্ত উচ্চ হারে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত থাকলে মার্কিন বাহিনী কেবল চীনের সাথেই নয়, উত্তর কোরিয়ার সাথেও সম্ভাব্য যুদ্ধে ঝুঁকির মুখে পড়বে। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিকল্পনায় সিউল ও মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।