জনস্বাস্থ্য ও পানি-স্যানিটেশন খাতের উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা ডা. খায়রুল ইসলাম এ মাসেই ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা ছিল। অথচ তার আগেই তিনি চিরবিদায় নিলেন। আজ শুক্রবার ভোরে রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে (পূর্বে ইউনাইটেড) ৬৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সংস্থার যোগাযোগ সমন্বয়ক প্লাবন গঙ্গোপাধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওয়াটারএইড সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে তাঁর প্রাণবায়ু নিঃশেষ হয়।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি নিপসম ও যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা গ্রহণ করেন। গবেষক ও লেখক হিসেবে তাঁর একাধিক গ্রন্থ দেশে ও বিদেশে প্রকাশিত হয়েছে। প্রথমা প্রকাশন থেকে বের হওয়া ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের বিকাশ’ বইটির সম্পাদনা পরিষদের সদস্য ও প্রদায়ক হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস প্রকাশিত স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি বিষয়ক গ্রন্থ এবং ‘মুজিবপিডিয়া’য় স্বাস্থ্য খাতের প্রদায়ক ছিলেন তিনি। বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামানের সঙ্গে পাঁচ বছরের যৌথ গবেষণার ফল হিসেবে ‘মুক্তিযুদ্ধের চিকিৎসা ইতিহাস’ ২০২২ সালে প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয়। দেশের চিকিৎসা ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল হিসেবে এই বইটি বিবেচিত হয়।
পানি ও স্যানিটেশন খাতের উন্নয়নে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন। সহকর্মীদের কাছে তিনি সজ্জন ও সদালাপী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চিকিৎসা, ওয়াশ ও সামাজিক নানা বিষয়ে সংবাদপত্রে তাঁর কলাম নিয়মিত প্রকাশ পেত। ‘স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য: প্রদীপের নিচের অন্ধকার’—এই ভাবনাও তাঁর কাজের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। ওয়াটারএইডের বাংলাদেশীয় প্রধান হাসিন জাহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মৃতদেহটি আজ বারডেমের মরচুয়ারিতে নেওয়া হবে। প্রবাসী ছেলের দেশে ফেরা পর্যন্ত সেখানেই মরদেহ রাখা হবে। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তিনি মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে উত্তীর্ণ হন। চিকিৎসাশাস্ত্রের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য বিষয়ে তাঁর গভীর অধ্যয়ন ছিল, যা তাঁর পরবর্তী গবেষণা ও লেখালেখির ভিত্তি গড়ে তোলে। তাঁর লেখায় জনস্বাস্থ্য নীতির বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠত।




