রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ওই খসড়া প্রতিবেদনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশপ্রধান, বিজিবিপ্রধানসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নামও তাতে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি এখন যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যেহেতু এটি এখনও খসড়া এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আমরা গ্রহণ করিনি, তাই আসামিদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত সংস্থা এই নারকীয় ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কাজ করেছে। তদন্ত শেষে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে খসড়া প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা এখন পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১০ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু ও সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। চিফ প্রসিকিউটর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুকেও এই মামলায় আসামি করা হতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হামলায় বহু মানুষ নিহত হন। ওই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ল, যা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে।




