সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও তাঁর ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে আদালতে নতুন একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সংসদ সদস্যের স্ত্রী পারভীন আকতার এই মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ ও মানসিকভাবে অস্থির অবস্থায় স্বামীর গলায় রামদা চাপা দিয়ে তিন সৎভাই জোরপূর্বক সম্পত্তির দলিলে সই করিয়ে নেন। সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (দিরাই আমলি আদালত) গত সোমবার আটজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন জানানো হয়। বিচারক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহিত লাল চন্দ নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে পারভীন আকতার উল্লেখ করেছেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি থেকে যাতে তিনি বঞ্চিত হন, সেই পরিকল্পনা করেন সৎভাইয়েরা। উদ্দেশ্য ছিল, নাছির চৌধুরীর দুই স্ত্রী ও দুই সন্তানকে সব সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা থেকে অসুস্থ স্বামীকে দেখতে দিরাইয়ের বাড়িতে গেলে তিনি মারপিট ও শ্লীলতাহানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনি অসুস্থ স্বামীকে তাঁর প্রথম স্ত্রী নিঃসন্তান শেলী চৌধুরী ও বোন শামীমা চৌধুরীর কাছে রেখে যান, যাঁরা নিজেরাও অসুস্থ ছিলেন।
এরপর ২৫ জানুয়ারি সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দুই কর্মচারীকে কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন অভিযুক্তরা। অসুস্থ নাছির চৌধুরীকে দলিলে সই করতে বলা হলে তিনি রাজি হননি। তখন তাঁর গলায় রামদা ধরে সই না করলে গলা কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে শেলী চৌধুরীকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ের কারণে পরে তিনি দলিলে সই করেন বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পারভীন আকতার এসে পুলিশের সহায়তায় স্বামীকে উদ্ধার করে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। কিছুটা সুস্থ হলে তিনি জোর করে দলিলে সই নেওয়ার ঘটনা জানতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হলে অভিযুক্তরা ক্ষমা চেয়ে দ্রুত দলিল বাতিলের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ঘটনার পর থেকে শেলী চৌধুরী ও শামীমা চৌধুরী — দুজনেই মারা গেছেন।
মামলার আসামি ও দিরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী (মাসুক) বলেন, পারিবারিক কিছু ঝামেলা রয়েছে। তবে মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না; জানার পর আইনিভাবে জবাব দেবেন। উল্লেখ্য, নাছির চৌধুরী সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত নির্বাচনের পর ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর উপলক্ষে গত ৬ আগস্ট দিরাইয়ে বিএনপির এক সমাবেশে নাছির চৌধুরী বলেন, তাঁর কোনো ভাই নেই, তিনি একা। এর পরদিন মঈন উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে পাল্টা সমাবেশ হয়, যেখানে তিনি দাবি করেন, সংসদ সদস্যকে একটি লুটেরা সিন্ডিকেট ঘিরে রেখেছে এবং তাঁরা তাঁকে সেই কবল থেকে মুক্ত করতে চান।




