সোমবার রাতে রাজধানীতে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টি ও বজ্রপাত দেখা গেছে। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি মধ্যরাত নাগাদ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক দীর্ঘ সময় ধরে জলমগ্ন ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই সময়ে রাজধানীতে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেছেন, বর্ষাকালে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি না হলে সূর্যের তাপে মাটি ও নিচের বায়ুস্তর অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যায়। এই উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু দ্রুত উপরে উঠতে চায়। বর্ষায় বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প আসায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও অনেক বেশি থাকে। বৃষ্টির বিরতির সময় সেই আর্দ্রতা বায়ুমণ্ডলে জমা থাকতে পারে। ফলে নিচের দিকে গরম ও আর্দ্র বায়ু তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ কোনো নিম্নচাপীয় প্রবাহ বা বায়ুর সংঘর্ষের কারণে এই গরম-আর্দ্র বায়ু দ্রুত উপরে উঠলে ঘন ও ভারী মেঘ সৃষ্টি হয়, যাকে বজ্রঝড়ের মেঘ বলা হয়। গতকাল রাতে রাজধানীতে প্রচুর বজ্রপাত ও মেঘের গর্জন লক্ষ্য করা গেছে। বড় বজ্রমেঘের ভেতরে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী ও নিম্নমুখী বায়ুপ্রবাহ থাকে। বরফকণা, তুষারকণা ও পানির কণার সংঘর্ষে বৈদ্যুতিক চার্জ আলাদা হয়ে যায় এবং চার্জের পার্থক্য বেড়ে গেলে বজ্রপাত ঘটে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ মঙ্গলবার দেশের চারটি বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। মূলত উপকূলীয় এলাকাগুলোতেই বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজধানীতে আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন হাফিজুর রহমান।

এদিকে সাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আজ বা আগামীকাল বুধবার এটি তৈরি হতে পারে। তবে লঘুচাপটি খুব বেশি বৃষ্টি ঝরাবে না বলেও মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। আগামী সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং সপ্তাহজুড়েই এমন অবস্থা চলতে পারে।

মাসের শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছিল, এ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। গত তিন দিন রাজধানী ছিল বৃষ্টিহীন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত কমে গিয়েছিল। গতকালের বৃষ্টি সেই বিরতি কাটিয়ে দিল।