শিশুদের স্নান করানোর সময় শুধু পরিচ্ছন্নতাই নয়, বরং নিরাপত্তা ও আরামের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় অপ্রত্যাশিত বিপদ ঘটতে পারে। ছোট বাচ্চাদের সাধারণত টাব বা বোলের পানিতে রেখে গোসল করানো হয়। সেক্ষেত্রে যিনি গোসল করাচ্ছেন, তাঁকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এক সেকেন্ডের জন্যও শিশুকে গোসলের পানিতে একা ফেলে যাওয়া উচিত নয়। মাত্র দুই থেকে তিন ইঞ্চি পানিতেও একটি শিশু খুব দ্রুত ডুবে যেতে পারে। তাই ফোন ধরতে, তোয়ালে আনতে বা অন্য কোনো শিশুর খোঁজ নিতেও বাথরুম থেকে বের হওয়া নিষেধ।

গোসলের সময় পানির কল খোলা অবস্থায় রাখা বিপজ্জনক। শিশু পানিতে থাকা অবস্থায় কখনো কল খুলে গরম পানি ভরবেন না। এতে পানির তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়ে শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। শিশুর ত্বক বড়দের তুলনায় অনেক পাতলা ও সংবেদনশীল, তাই অতিরিক্ত গরম পানি সহজেই পুড়িয়ে ফেলতে পারে। আদর্শ তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা কবজি ডুবিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে। কানের ভেতর বা নাকে কখনো কটন বাড বা তুলার কাঠি ব্যবহার করা ঠিক নয়। শিশুর মুখের ওপর সরাসরি পানি ঢালাও উচিত নয়, এতে শ্বাসকষ্ট বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। বড়দের সাবান, বাবল বাথ বা অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এগুলো শিশুর ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়।

গোসলের আগে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। পানি ভরার আগে প্রয়োজনীয় সব জিনিস—নরম কাপড়, মৃদু শিশুর সাবান, পানি ঢালার কাপ, পরিষ্কার ডায়াপার ও মাথা ঢাকার তোয়ালে—হাতের কাছে রাখতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখতে হবে, যাতে গোসলের পর শিশুর ঠান্ডা না লাগে। বোলে ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পানি নিয়ে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে নিন। শিশুকে ধরে রাখার কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ: যে হাত কম ব্যবহার করেন, সেই হাত দিয়ে শিশুর মাথা ও ঘাড় ধরে রাখুন এবং অন্য হাত দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রথমে পা পানিতে নামিয়ে ধীরে ধীরে শিশুকে নামান, যাতে তার মনে না হয় যে সে পড়ে যাচ্ছে। পুরো গোসলের সময় শিশুর সঙ্গে শারীরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।

পরিষ্কার করার সময় প্রথমে সাবান ছাড়া ভেজা কাপড় দিয়ে চোখের ভেতরের কোণ থেকে বাইরের দিকে আলতো করে মুছুন। প্রতিটি চোখের জন্য কাপড়ের আলাদা অংশ ব্যবহার করুন। মুখ শুধু পরিষ্কার পানি দিয়ে মুছুন। মাথার ত্বকে অল্প পরিমাণে চোখ জ্বালাপোড়া না করা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। শ্যাম্পু ধোয়ার সময় হাত দিয়ে শিশুর কপাল ঢেকে রাখুন, যাতে পানি চোখে না যায়। ঘাড়ের ভাঁজ, বগল, কানের পেছনে এবং হাত-পায়ের আঙুলের মাঝের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, কারণ এসব জায়গায় দুধের অংশ ও আর্দ্রতা জমে থাকে। ডায়াপার পরার অংশটি সবশেষে পরিষ্কার করুন এবং সংক্রমণ ঠেকাতে সবসময় সামনে থেকে পেছনের দিকে মুছুন।

গোসল শেষে শিশুকে সাবধানে পানি থেকে তুলুন। ভেজা শিশু খুব পিচ্ছিল হয়, তাই সতর্ক থাকুন। নরম তোয়ালে দিয়ে ভালোভাবে জড়িয়ে নিন। ত্বক ঘষে না মুছে আলতো চাপ দিয়ে শুকিয়ে নিন, বিশেষ করে ত্বকের ভাঁজগুলো। ত্বক শুষ্ক হলে হালকা, সুগন্ধিবিহীন শিশুর লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর দ্রুত ডায়াপার ও পোশাক পরিয়ে দিন, যাতে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে।

অভিভাবকদের জন্য কিছু সাধারণ পরামর্শ: নাভির নাড়ির অবশিষ্ট অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত (সাধারণত জন্মের ১০ থেকে ১৪ দিন) শিশুকে শুধু স্পঞ্জ বাথ দেওয়া ভালো। নবজাতকের সপ্তাহে মাত্র দুই থেকে তিনবার পুরো গোসল করালেই যথেষ্ট, বেশি গোসল করালে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। গোসলের জন্য সঠিক সময় বেছে নিন—যখন শিশু জেগে থাকে এবং শান্ত থাকে। খাওয়ানোর পরপরই বা শিশু খুব ক্ষুধার্ত কিংবা ক্লান্ত থাকলে গোসল করানো ঠিক নয়। সূত্র: এন এইচ এস, রেইজিং বেবি নেটওয়ার্ক।