চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের পদ্ধতিতে এবার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে কেবল উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ত্রুটি আছে কিনা, তা যাচাই করা হতো; কিন্তু মূল্যায়নে কোনো ভুল হয়েছে কিনা, সেটি দেখার সুযোগ ছিল না। এবার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বরের গণনায় ত্রুটির পাশাপাশি মূল্যায়নের ভুলও যাচাই করা হবে। এ জন্য প্রায় ২৮৭ জন পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের অধিকাংশই ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের জন্য নিযুক্ত।
ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হয়। বোর্ডে মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি আবেদন জমা পড়েছে, যা করেছেন ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী। বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইংরেজিতে ২০ হাজার ৪০০টি এবং গণিতে ১৩ হাজার ৮২৮টি আবেদন এসেছে। এ দুটি বিষয়ে মোট ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইংরেজি ও গণিতের পর বাংলায় সর্বাধিক আবেদন জমা পড়েছে—সংখ্যাটি ৭ হাজার ৭৭১টি। মোট আবেদনের মধ্যে ইংরেজির অংশ ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং গণিতের ১২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানে ৬ হাজার ৮২৩টি, জীববিজ্ঞানে ৪ হাজার ৫৫৯টি, রসায়নে ৪ হাজার ৫৩৫টি এবং উচ্চতর গণিতে ৪ হাজার ৪৪০টি আবেদন পাওয়া গেছে। এসব আবেদনও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আওতায় আসবে।
১০ আগস্ট সারা দেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। চট্টগ্রাম বোর্ডে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। ২০১০ সালে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে পরীক্ষা চালুর পর এ বোর্ডে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ; সে হিসেবে ১৯ বছরের মধ্যে এবারই চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম।
বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পাস করেছেন ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন, অর্থাৎ ৫২ হাজার ৭৬৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এক বিষয়ে পাস করতে না পারা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৭৭১ জন।
বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় অংশই ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে কৃতকার্য হতে পারেননি। ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র মিলিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৩৬৬ জন; তাদের মধ্যে ৩৫ হাজার ৮৭৬ জন পাস করেননি। অন্যদিকে গণিতে পরীক্ষা দিয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৫ জন, যাদের মধ্যে ২৫ হাজার ৭৮৩ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। এই দুই বিষয়েই ব্যর্থতার হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
এবার চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন ১ হাজার ২৬৮টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পুনর্নিরীক্ষণের জন্য প্রায় ৩০০ জন পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে কাজ করবেন। প্রতি বছর পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় নম্বর গণনায় ভুল ধরা পড়ে এবং অনেকের ফল পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটে। পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির নজির রয়েছে।




