কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিষয়ক কর্তৃপক্ষ (আইআরসিসি) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়া কর্মসংস্থানে জড়িত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। নিয়ম ভেঙে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে কানাডা থেকে অপসারণের মুখোমুখি হতে পারে এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত ওই দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাস বা কাজের অনুমতির জন্য প্রযোজ্য শর্ত সম্পর্কে গভীরভাবে অবগত হওয়া অত্যাবশ্যক।
একই সঙ্গে আইআরসিসি পরামর্শ দিয়েছে যে কানাডায় যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের উচিত নির্দিষ্ট শিক্ষাক্রমটি পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের (পিজিডব্লিউপি) যোগ্য কিনা, তা যথাযথভাবে যাচাই করা। যেসব পরামর্শক, নিয়োগকারী বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘নিশ্চিতভাবে’ স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের কাছ থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ ভর্তি হওয়া মানেই অভিবাসনের সুযোগ তৈরি হওয়া নয়—এই বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রদেশটির পোর্টেজ কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগে উঠে এসেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে পড়াশোনা করলে কানাডায় থেকে কাজ করা যাবে এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে—এমন ধারণা তাঁদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তব অভিবাসননীতির সঙ্গে এই প্রত্যাশার কোনো মিল নেই। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ও সরকারি নীতির মধ্যে ফারাক নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। যদিও আলবার্টার প্রধানমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ পোর্টেজ কলেজকে ‘ডিপ্লোমা মিল’ হিসেবে বর্ণনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবু তিনি স্বীকার করেছেন যে কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে অভিবাসনের সুযোগ এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তাঁদের অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ড্যানিয়েল স্মিথ স্পষ্ট ভাষায় জানান, শিক্ষার্থী ভিসা কানাডায় পড়াশোনার জন্য একটি অস্থায়ী নথি মাত্র। তাঁর মতে, এই অনুমতিপত্র সবসময়ই অস্থায়ী ছিল এবং কখনো স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা বহন করে না। তিনি আরও বলেন, আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত প্রদেশটির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত। যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ রয়েছে, সেখানে তাঁদের সব শর্ত বুঝে আসা উচিত। পড়াশোনা শেষ করে সেই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে নিজ দেশে জীবন গড়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে স্মিথের বক্তব্যে উঠে এসেছে যে, কেউ কানাডায় এসে পড়াশোনা শেষ করার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যদি স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জন করতে না পারেন, তাহলে তাঁকে অবশ্যই নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন, অস্থায়ী অনুমতির মেয়াদ শেষ হলে দেশে ফেরাই একমাত্র বিকল্প—যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন না মেলে। ফলে কানাডায় উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু ভর্তি নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, বরং যাওয়ার আগেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিবাসন শর্ত সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।




