যুক্তরাষ্ট্রের জেন এক্স প্রজন্ম—১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ—দ্রুত অবসরের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। তবে এই প্রজন্মের পরিস্থিতি আগের বেবি বুমারদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মাত্র ১৪ শতাংশ জেন এক্স কর্মীর ঐতিহ্যবাহী পেনশন রয়েছে, যেখানে বেবি বুমারদের মধ্যে এই হার ৫৬ শতাংশ। অন্যদিকে, আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য নিচ্ছে মাত্র ২৬ শতাংশ জেন এক্স, বুমারদের মধ্যে যা ৪৩ শতাংশ।

ছোটবেলায় ‘ল্যাচকি’ বা নিজেদের যত্ন নেওয়া শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্ম কাজের মাধ্যমেই নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলেছে। তারা কর্মক্ষেত্রে সর্বদা ‘ঘোড়ার মতো’ পরিশ্রম করেছে, কিন্তু এখন অবসরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তারা এক ধরনের দ্বিধায় ভুগছে। অনেক জেন এক্স ‘আরও এক বছর’ কাজ করার কথা বলেন, যা প্রকৃতপক্ষে আর্থিক ও মানসিক দুটি প্রশ্নের আড়াল। নেটওয়ার্থ বা সম্পদের পরিমাণ নিয়ে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি আত্মমর্যাদা বা ‘সেল্ফ-ওয়ার্থ’ নিয়েও সংশয় কাজ করছে।

৪০১(কে) পরিকল্পনায় টানা ১৫ বছর অবদান রাখা জেন এক্সদের গড় ব্যালেন্স ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ ডলার, তবে সবাই মিলে গড় ২ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ ডলার। কিন্তু জমানো অর্থ থেকে খরচ করা—যাকে ‘ডিকিউমুলেশন’ বলা হয়—একটি ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ। কর্মজীবনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঞ্চয় করার অভ্যাস থাকলেও অবসরে প্রথমবারের মতো সেই টাকা তুলতে গিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়েন। বাজারের ওঠানামাও এই উদ্বেগ বাড়ায়।

ফরচুন ডটকমে প্রকাশিত এক মতামতকলামে লেখক, যিনি নিজেও জেন এক্স এবং ৪০১(কে) শিল্পে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞ, জানান যে অবসর গ্রহণের পর তিনি নিজেও পরিচয় সংকটে ভুগেছেন। তাঁর ভাষ্য, “অবসর কোনো ছুটি নয়; এটি আপনার জীবন।” তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিজের লড়াই শেয়ার করলে ৮০ হাজার ভিউ পাওয়া প্রথম ভিডিওটি প্রমাণ করে যে এই অনুভূতি শুধু তাঁর একার নয়।

লেখকের মতে, জেন এক্সকে ‘ওয়ার্কহর্স’ নয়, বরং ‘থরোব্রেড’ বা উন্নত জাতের ঘোড়ার মতো দেখা উচিত। যারা দৌড় থেকে সরে এসেও নতুন পথ খুঁজে নেয়। তবে তাদের সাহায্যের প্রয়োজন। আর্থিক উপদেষ্টারা শুধু হিসাব-নিকাশ নয়, বরং এই প্রজন্মকে বলতে পারেন: “তোমার যথেষ্ট আছে, তুমি যথেষ্ট করেছ, এখন থামতে পারো।” তিন চতুর্থাংশ জেন এক্সের এখনো কোনো উপদেষ্টা নেই, কিন্তু তাদের সেই সাহায্যের খুব প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, জেন এক্সের অবসর কেবল অর্থের বিষয় নয়—এটি একটি পরিচায়ক সংকট, যেখানে তারা নিজেদের মূল্য পুনরায় সংজ্ঞায়িত করতে চায়। এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সাহায্য চাওয়া, যা তারা অভ্যস্ত নয়।