সপ্তাহজুড়ে দরপতনের পর মার্কিন শেয়ারবাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের আগে বৃহস্পতিবার সকালে ফিউচার ট্রেডিংয়ে সূচকগুলোর দর বেড়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিউচার ০.২ শতাংশ বেড়ে ৫৩,৯৭৮.০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, অপরদিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ফিউচারও ০.২ শতাংশ বেড়ে ৭,৭৮৪.৫০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নাসডাকের ফিউচার ০.১ শতাংশ বেড়ে ২৯,৮৭৭.২৫ পয়েন্টে উঠেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি সূচকই নিম্নমুখী ছিল।
শ্রম বিভাগের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) প্রকাশের কথা রয়েছে। এই সূচকটি মূলত খুচরা পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে পাইকারি পর্যায়ের মূল্যচাপ প্রতিফলিত করে, যা ভবিষ্যতে দাম কেমন হতে পারে তার ইঙ্গিত দেয়। এর আগের দিন সংস্থাটি জানিয়েছে, জুলাই মাসে বছরওয়ারি ভোক্তামূলক মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩.৪ শতাংশ, যা জুনের ৩.৫ শতাংশের চেয়ে কিছুটা কম। উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এই হার ২.৪ শতাংশে নেমে এসেছিল। মাসভিত্তিক হিসাবে জুন থেকে জুলাই পর্যন্ত দাম বেড়েছে ০.১ শতাংশ।
প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলো বৃহস্পতিবার সকালে ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যদিও সিসকো সিস্টেমসের শেয়ার ৬ শতাংশ কমেছে। চতুর্থ প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর এই পতন ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি সব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে ফল করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চাহিদার কারণে তাদের বিক্রি বেড়েছে, কিন্তু বছরের শুরু থেকেই শেয়ার ৬১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি এআই স্টকগুলোর মধ্যে বেশ অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা দেখতে চাইছেন প্রযুক্তি খাতের বিশাল ব্যয় প্রকৃতপক্ষে লাভজনক হচ্ছে কি না।
অপরদিকে, বিল অ্যাকম্যানের পার্শিং স্কয়ার প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনার খবরে স্ট্রিমিং কোম্পানিটির শেয়ার প্রাক-বাজার ট্রেডিংয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। কয়েক বছর আগে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ থেকে সরে এসে এই প্রতিষ্ঠানটি কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল। তবে নতুন নথিতে তারা জানিয়েছে, নেটফ্লিক্স এখন 'স্ট্রিমিং যুদ্ধে কার্যকরীভাবে জয়ী' হয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস।
বিশ্ব বাজারের দিকে তাকালে ফ্রান্সের সিএসি ৪০ সূচক ০.২ শতাংশ বেড়ে ৮,৬৯৪.২৫ পয়েন্টে উঠেছে, আর জার্মানির ডিএক্স ০.৫ শতাংশ বেড়ে ২৬,৪৬৫.৯৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। তবে ব্রিটেনের ফুটসি ১০০ সূচক ০.৩ শতাংশ কমে ১০,৮০০.২৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। এশিয়ার বাজারে জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.২ শতাংশ বেড়ে ৬৮,৩০৮.৫৯ পয়েন্টে শেষ হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৩.৬ শতাংশ বেড়ে ৬,৮১৩.৩৪ পয়েন্টে উঠেছে, যেখানে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শেয়ার ৪.৯ শতাংশ এবং চিপ নির্মাতা এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ৯ শতাংশ বেড়েছে। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.২ শতাংশ কমে ২৫,৩৯৬.৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম ২.১৩ ডলার কমে ব্যারেলপ্রতি ৮১.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডও ২.০২ ডলার কমে ৮৭.১৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলার ১৫৯.৩৪ জাপানি ইয়েনে দর কমেছে, আগের দিন যা ছিল ১৫৯.৩৭ ইয়েন। ইউরোর দাম ১.১৫২৬ ডলার থেকে বেড়ে ১.১৫৩৬ ডলার হয়েছে। সম্প্রতি ইয়েনের দর ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে বাজার হস্তক্ষেপের পর বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। ডলার ইয়েনের তুলনায় কিছুটা দর হারালেও এখনও ১৫০ ইয়েনের উপরে রয়েছে।




