রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে গভীর অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া ১২টি বিদ্যালয়ের মোট ২৩৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বিভাগীয় ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে শিশুশিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
অভিভাবকরা জানান, নিয়ম অনুযায়ী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাতটি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দুজন করে মেয়ে ও দুজন করে ছেলের সাধারণ বৃত্তির কোটা থাকায় মোট ২৮ জনের বৃত্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে মাত্র একজন শিক্ষার্থী তা পেয়েছেন, যা কোনোমতেই যৌক্তিক নয়। তারা আরও বলেন, বৃত্তি পরীক্ষায় পাসের জন্য প্রতিটি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ নম্বর প্রয়োজন, কিন্তু সাতটি ওয়ার্ডের কোনো শিক্ষার্থীই সেই ন্যূনতম নম্বর না পাওয়া সম্ভব নয় বলেই তাঁদের ধারণা। পাশাপাশি, নিয়ম অনুসারে সরকারি বিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশ ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাওয়ার কথা থাকলেও রাজশাহী সিটি এলাকায় বেসরকারি বিদ্যালয়ের ৬৩ জন মেধাবৃত্তি পেয়েছেন, যেখানে সরকারি বিদ্যালয়ের বৃত্তিপ্রাপ্ত সংখ্যা মাত্র ৫৪। এই হিসাবের গরমিল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য প্রদানকারী অভিভাবক আজিবর রহমান বলেন, ফলাফলের এই অসংগতির কারণে প্রচুর মেধাবী শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ক্ষতির পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও নষ্ট হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা সাত দফা দাবি জানিয়েছেন: নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ফল প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ফল প্রকাশের ব্যবস্থা চালু করা, গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে শিক্ষক-অভিভাবকদের অবহিত করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা। দাবি পূরণ না হলে তারা অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান জানান, কেন্দ্রটিতে ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিলেও বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকায় কারো নাম না থাকা বিস্ময়কর এবং তা অবশ্যই তদন্তের দাবি রাখে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন তাদের হাতে কোনো তথ্য নেই, কারণ এক জেলার খাতা অন্য জেলায় মূল্যায়নের জন্য পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ফলাফল অধিদপ্তরে যায়। অভিভাবকদের দেওয়া স্মারকলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হবে। তিনি সম্ভাবনা প্রকাশ করেন যে ফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটির কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে এবং কর্তৃপক্ষ তা খতিয়ে দেখবে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালেও রাজশাহীতে প্রাথমিক বৃত্তি জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে সুশিক্ষা আন্দোলন মঞ্চের নেতৃত্বে বিক্ষোভের পর সরকার ফলাফল সংশোধন করে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। বর্তমান ঘটনায়ও অনুরূপ সমাধানের আশা করছেন অভিভাবকরা।

