জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত হয়েছে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬)। ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব আজ রোববার সকাল ৯টায় নবাব নওয়াব আলী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিগত ১৬ বছর ছিল ভীতি, গুম, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী। তাঁর মতে, জুলাই আন্দোলন কেবল ৩৬ দিনের ঘটনা নয়, বরং এটি ন্যায়বিচার ও সংস্কারের দীর্ঘ পথচলার সূচনা মাত্র। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই যাত্রায় জাতির ক্ষত সারিয়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম সম্মেলনে বক্তৃতায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে, যা শহীদ পরিবারগুলোকে আরও কষ্ট দিচ্ছে। তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নানা টালবাহানার অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করে বলেন, সনদ বাস্তবায়িত না হলে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্ভব নয় এবং দেশ আবার ফ্যাসিবাদের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান তাঁর বক্তব্যে অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ব্যাংক খাতের সংকট ও বড় বিপর্যয়ের পরও দেশের অর্থনীতি টিকে আছে, কারণ ১৮ কোটি মানুষ নিজেদের কাঁধে এই অর্থনীতির ভার বহন করছে। তিনি ‘কিছুই হয়নি’ বা ‘সব ভেস্তে গেছে’—এ ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোভিচ ভিডিও বার্তায় বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং একটি কার্যকর বিরোধী দল গঠিত হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনা ও ভুক্তভোগীদের ত্যাগ কখনো ভুলে না যাওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন জুলাই বিপ্লবকে জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি অন্যায়, অত্যাচার ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান।
ঢাকাভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আরআইটি, ডাকসু, ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন আয়োজিত হচ্ছে। এতে মানবাধিকার ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনও অংশ নিচ্ছে।




