গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ওই শিশুটির বাবা টমটমচালক। ওই দিন সকালে পাশের বাড়ির ভাড়াটিয়া বাবু শেখ শিশুটিকে ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা ও পরে গলা কেটে ফেলে রাখেন তিনি। সড়ক সংস্কারকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা শিশুটিকে গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পেলে হেঁটে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসেছিল শিশুটি। শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির মৃত্যুর পর দিন ৩ মার্চ দুপুরে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবার সঙ্গে বাবু শেখের পুরোনো বিরোধ ছিল এবং সেই জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর চট্টগ্রামের তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান সংবাদ সম্মেলনে জানান, শিশুটির বাবার সঙ্গে বিরোধের কারণে বাবু শেখ পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করে। তিনি শিশুটিকে ফুসলিয়ে পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন।

শিশুটির মায়ের দায়ের করা মামলার তদন্ত শেষে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ১৮ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। ২১ জুন থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হলে মোট ১৬ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ চট্টগ্রামের বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে বাবু শেখকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়েছে। বিচার শুরুর ১২ কার্যদিবসের মধ্যে দ্রুততম সময়ে রায় দেয়া হলো। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন।