পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে মাছ ধরতে বঙ্গোপসাগরে গিয়েছিল একটি ট্রলার। গত রোববার রাতে হঠাৎ দমকা বাতাসের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় ১১ জন মাঝিমাল্লার মধ্যে ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার সকাল পর্যন্ত তাঁদের কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন গলাচিপার গজালিয়া ইউনিয়নের ফোরকান হাওলাদার (৪৫) ও তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম (১৯), আল আমিন (৪৫), পানপট্টি ইউনিয়নের হারুন মিয়া (৪০) ও এমাদুল (৩০) এবং সদর ইউনিয়নের পাক্ষিয়া গ্রামের আকাশ (২২)। অন্যদিকে, ওই ট্রলার থেকে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার (৩৮), নাজমুল (২২), সাকিল (২১), বায়জীদ (২২) ও রাকিব (২১)।
জীবিত উদ্ধার হওয়া এমাদুল সিকদার ও রাকিবকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী জানান, দীর্ঘ সময় সাগরে ভাসমান থাকা এবং লবণপানি পেটে যাওয়ায় তাঁদের অবস্থা গুরুতর। বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
dঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ট্রলারমালিক এমাদুল সিকদার বলেন, গত শনিবার রাতে ১১ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে তিনি সাগরে মাছ ধরতে যান। পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা দূরে গভীর সাগরে পৌঁছে জাল ফেলেন। রোববার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ দমকা বাতাসে ট্রলারটি উল্টে যায় এবং ডুবে যায়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন ও কেবিনে থাকা তিনজন বের হতে পারেননি। বাইরে থাকা আটজনের মধ্যে তিনজন ট্রলারের একটি অংশ ধরে ভেসে থাকেন। তিনি ও আরও পাঁচজন মাছ ধরার ভাসমান বয়া ধরে সাগরে ভাসতে থাকেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ভোরে পাশ দিয়ে যাওয়া একটি মাছ ধরার ট্রলারের লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে।
gগলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ট্রলারমালিকের বাবা ইদ্রিস সিকদার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সেখানে ছয়জন নিখোঁজ ও পাঁচজন জীবিত উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর ইজাজুল হক বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁদের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।




