জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট শাসনামলে যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে সেই শাসনব্যবস্থাকে দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের শনাক্ত করতে সরকারের একাধিক তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে। শনাক্তকরণ শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবারের সংসদ বৈঠকে এ আলোচনা হয়।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে (৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত) দেশের সরকারি চাকরিতে মোট ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। অপরদিকে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য পড়ে আছে। পদ অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সচিব ও সিনিয়র সচিব পর্যায়ে ৬৯টি পদের বিপরীতে ৬৭ জন, অতিরিক্ত সচিব পদে ৩৬৮টির বিপরীতে ৩৭৮ জন, যুগ্ম সচিব পদে ১ হাজার ১১৬টির বিপরীতে ৮৯৩ জন এবং উপসচিব পদে ২ হাজার ২৪৫টির বিপরীতে ২ হাজার ৯৪০ জন কর্মরত রয়েছেন।

গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বিসিএস পরীক্ষার ফল প্রকাশের নানা সময়সীমা তুলে ধরেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞপ্তির ৩ বছর ৭ মাস পর। ৪৫তম বিসিএসের ফল আসে ২ বছর ১১ মাস ২৭ দিনে, ৪৬তম বিসিএসের ফল আসে ২ বছর ২ মাস ৯ দিনে এবং ৪৭তম বিসিএসের ফল আসে ১ বছর ৭ মাসে। ৫০তম বিসিএসের ফল বিজ্ঞপ্তির এক বছরের মধ্যেই প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য দেওয়া হয়।

এছাড়া বিভিন্ন ক্যাডারে মোট ৮ হাজার ৯৯টি পদ শূন্য রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকরিক্ষেত্রে পদোন্নতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিভিন্ন ক্যাডারের দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের যথাসময়ে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর হার ২৯ শতাংশ।