ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর সীমান্তবর্তী কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের আকাশে অরোরা বোরিয়ালিসের দেখা মিলতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, রবিবার রাতে কেপি সূচক ৯-এর মধ্যে ৪-এ পৌঁছাতে পারে, যার অর্থ অরোরা স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক উজ্জ্বল ও গতিশীল হবে এবং চৌম্বক উত্তর মেরু থেকে দূরবর্তী এলাকায়ও দৃশ্যমান হতে পারে।

পূর্বাভাসকারীদের মতে, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সূর্য থেকে নির্গত একটি করোনাল মাস ইজেকশন রবিবার নাগাদ পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে। এই সৌর পদার্থ সাধারণত পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের সঙ্গে বিক্রিয়া করে এবং অরোরা আরও দক্ষিণে দৃশ্যমান হতে সাহায্য করে। এনওএএ-এর তিন দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সৌর পদার্থ একটি করোনাল হোল থেকে নির্গত সৌর বায়ুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে, যার ফলে মৃদু ভূচৌম্বকীয় ঝড় এবং কিছু শক্তিশালী ঝড়ের 'বিচ্ছিন্ন সময়কাল' তৈরি হতে পারে।

এনওএএ জানিয়েছে, করোনাল হোল হলো সূর্যের তুলনামূলকভাবে শীতল ও বৃহৎ অঞ্চল, যা সৌর ফটোগ্রাফিতে কালো স্থান হিসেবে দেখা যায়। এই অঞ্চলগুলোর ঘনত্ব কম এবং এখানে একমুখী চৌম্বক ক্ষেত্র বিদ্যমান, যা অত্যন্ত দ্রুত সৌর বায়ুপ্রবাহকে মহাকাশে নির্গত হতে দেয়। যখন এই সৌর বায়ু পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে বিক্রিয়া করে, তখন ভূচৌম্বকীয় ঝড়ের সৃষ্টি হয়। রবিবারের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করা ঝড়গুলো কেবল 'মৃদু' পর্যায়ের হলেও, এগুলো অরোরাকে মার্কিন মূল ভূখণ্ডের কিছু অংশ থেকেও দৃশ্যমান করার ক্ষমতা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোতে রবিবার অরোরা দৃশ্যমান হওয়ার 'স্বল্প সম্ভাবনা' রয়েছে। এই অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে ওয়াশিংটন, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা, মিনেসোটা, উইসকনসিন এবং মিশিগানের আপার পেনিনসুলার অত্যন্ত উত্তরাংশ। এছাড়া আলাস্কার বেশিরভাগ এলাকায় অরোরা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যেখানে রাজ্যটির বৃহৎ অংশ এনওএএ-এর অরোরা পূর্বাভাস মানচিত্রে 'উচ্চ সম্ভাবনা' অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষজ্ঞরা দর্শনার্থীদের অরোরা দেখার জন্য যতদূর সম্ভব উত্তরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আলোক দূষণমুক্ত একটি স্থান নির্বাচন করে স্পষ্ট উত্তরমুখী আকাশের দৃশ্য নিশ্চিত করতে হবে। সময় নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাত ১০টা থেকে ভোর ২টার মধ্যে অরোরা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে বলে জানানো হয়েছে।

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সঙ্গে কথা বলা ফটোগ্রাফাররা বলেছেন, সঠিক সেটিংস ও সরঞ্জাম থাকলে স্মার্টফোন ক্যামেরা দিয়েও অরোরার মানসম্মত ছবি তোলা সম্ভব। আগ্রহী ফটোগ্রাফারদের একটি ট্রাইপড ও রিমোট টাইমার সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে, কারণ অন্ধকার আকাশের ছবি তোলার জন্য ক্যামেরাকে দীর্ঘ সময় নিশ্চল রাখতে হয়। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ফ্ল্যাশ বন্ধ রেখে নাইট মোডে র ছবি তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।