রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। শুনানির পর দুই তরুণীর জামিন আবেদন সম্পূর্ণরূপে নাকচ করে তাদের কারাগারে আটক রাখার স্পষ্ট আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের এই নির্দেশের ফলে জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে জান্নাত, যার বয়স একুশ বছর; এবং সুমা বড়াল ওরফে ডলি, যিনি ঊনত্রিশ বছরের—এই দুজনকেই জেলহাজতে পাঠানো হয়। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আবুল বাশার আবদুল্লাহ প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের ওই আদেশের মাধ্যমে দুজনকে বর্তমানে কারাগারে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি দায়ের হওয়া একটি মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক আবু সোলায়মান সুমন আদালতে যে আবেদন দাখিল করেন, তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়—এই মামলায়ই গতকাল আটক হওয়া দুই তরুণীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অভিযোগপত্রের বিস্তারিত বর্ণনায় বলা হয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর সোয়া ৬টার দিকে পুলিশ একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ মহিলা আওয়ামী লীগের বিশ থেকে পঁচিশ জন সদস্য ধানমন্ডির ৩ নম্বর সড়কে প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারবিরোধী মিছিলের জন্য জড়ো হচ্ছেন। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে কয়েকজনকে আটক করা সম্ভব হয়, যদিও বাকিরা দ্রুত পালিয়ে যান। আটককৃতরা পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, বাংলাদেশ সরকারের পতনের লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালানোর উদ্দেশ্যেই তারা সেখানে একত্রিত হয়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ধানমন্ডি থানায় পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে একটি মামলা দায়ের করে।
অপরদিকে, গত ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়েছিলেন জান্নাত ও সুমা। সেখান থেকে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তার দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাদের ওই ছয় মাস পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন এবং একই সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ জারি করেন।
আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন জান্নাতুল ফেরদৌসের পক্ষে আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম এবং সুমা বড়ালের পক্ষে আইনজীবী লিটন মিয়া জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত উভয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। আদেশ ঘোষণার পর আইনজীবী লিটন মিয়া প্রথম আলোকে জানান, ছয় মাস আগের ওই মামলায় গতকাল আটক হওয়া দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যদিও মামলার এজাহারে তাদের কোনো নাম উল্লেখ ছিল না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন।




