প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের পরিমাণ স্বচ্ছভাবে না জানানোর ফলে ভোক্তারা স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না — এমন অভিযোগ তুলে ভোলায় প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মাই রাইটস। শনিবার দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি, যেখানে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযোজন ও অতিরিক্ত লবণ-চিনি-ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের দাবি তোলা হয়।

কর্মসূচিতে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, দেশের বাজারে থাকা বেশিরভাগ প্রক্রিয়াজাত খাবারের মোড়কে লবণ, চিনি এবং ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ এমন জটিল ও অস্পষ্টভাবে লেখা থাকে যে সাধারণ ক্রেতারা সহজে তা বুঝতে পারেন না। ফলে কী খাচ্ছেন এবং তার স্বাস্থ্যগত প্রভাব কী — তা যাচাই করার সুযোগই পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু সচেতনতা বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয়; খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে পণ্যের মোড়কে স্পষ্ট এবং সহজবোধ্য সতর্কবার্তা দিতে বাধ্য করা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ ভোক্তাদের সঠিক খাদ্য নির্বাচনে সহায়তা করবে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন বক্তারা।

মাই রাইটসের ভোলা ইউনিটের নির্বাহী প্রধান শেখ ফরিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী, নাজিউর রহমান কলেজের সহকারী অধ্যাপক জুন্নু রায়হান, ভোলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মো. সুলাইমান, আইনজীবী সালাউদ্দিন প্রিন্স এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশীদ। এছাড়া সাংবাদিক মঞ্জুর আলম, মো. আরিয়ান আরিফ, মো. সোহেল রানা, গোলাম কিবরিয়া, ইয়ামিন, আমিনুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক নেতা এছাক ফরাজীও বক্তব্য দেন।

আয়োজকরা বলেন, খাদ্যের মোড়কে লবণ, চিনি এবং ট্রান্সফ্যাটের পরিমাণ সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য থাকলে ভোক্তারা সহজেই তুলনা করে স্বাস্থ্যকর পণ্য বেছে নিতে পারবেন। এই দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।