সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে ধানগড়া বাজারে একটি সভা শেষে ফেরার পথে তাঁর গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি এই হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দায়ী করেছে। খবর পেয়ে উপজেলার চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং জড়িতদের বিচারের দাবি তোলেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য আয়নুল হক উপজেলার ধানগড়া বাজারে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এক সভায় অংশ নেন। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার পর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তিনি চলে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু বাসিন্দা তাঁর গাড়ি আটকে দেন। এ সময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া ঢিলে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে যায়। পুলিশ ও দলের নেতা-কর্মীদের সহায়তায় তিনি গাড়ি নিয়ে চান্দাইকোনার দিকে রওনা হন।
ঘটনার পর সংসদ সদস্যের সফরসঙ্গী ফয়সাল আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে জামায়াত-শিবির ও এনসিপিকে হামলার জন্য দায়ী করেন। অন্যদিকে, ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে তাঁদের এলাকায় টিটিসি নির্মাণের দাবিতে মিছিল করেন। সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার খবরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গাড়িটি ঘিরে ধরেন এবং বিক্ষোভ দেখান।
জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির আলী মর্তুজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো ঘটনাই জামায়াতের ওপর দোষ চাপানো বিএনপির পুরোনো কৌশল। এই অভ্যাসের কারণেই আজকের ঘটনায় মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে অবস্থান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ সদস্যের গাড়িতে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংসদ সদস্য আয়নুল হক হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান রাত নয়টার দিকে জানান, হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




