মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে জুলাই মাসে আবারও মন্দার ছাপ দেখা গেছে। পূর্ববর্তী মালিকানাধীন বাড়ির বিক্রি গত মাসে জুনের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হারে ৪ দশমিক ০৬ মিলিয়ন ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ রিয়েলটর্স (এনএআর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। অবশ্য ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুযায়ী, এই বিক্রির পরিমাণ অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশিত ৪ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ইউনিটের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাই মাসে বিক্রি ০ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আবাসনের দাম নিয়ে এনএআর জানিয়েছে, জুলাই মাসে দাম ক্রমাগত বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছে। দেশব্যাপী মধ্যমা বিক্রয় মূল্য গত বছরের তুলনায় ২ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে জুন মাসে এই মূল্য ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ ডলারে পৌঁছেছিল, যা ১৯৯৯ সাল থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী যেকোনো মাসের জন্য সর্বোচ্চ রেকর্ড। টানা ৩৭ মাস ধরে বার্ষিক ভিত্তিতে বাড়ির দাম বাড়ছে।
গত সপ্তাহে মর্টগেজ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাক জানিয়েছে, মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের বন্ধকী সুদের হার ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা পঞ্চম সপ্তাহ ধরে এই গড় হার বাড়ল, ফলে উচ্চ ঋণের খরচের মুখে নতুন ক্রেতাদের জন্য চাপ আরও বেড়ে গেল।
হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ কার্ল ওয়েইনবার্গ বলেছেন, জুলাইয়ের প্রতিবেদনে মার্কিন আবাসন বাজার সম্পর্কে কোনো ভালো খবর খুঁজে পাওয়া কঠিন। তিনি মন্তব্য করেন, যাদের কাছে ইতিমধ্যে বাড়ি আছে তারা তা বিক্রি করার সামর্থ্য হারাচ্ছে। কোভিড যুগের অতি কম সুদের হারের বন্ধকী ঋণগ্রহীতারা সেই সুবিধা ছাড়তে পারছেন না। ফলে বিক্রেতার অভাব হলে ক্রেতারাও বাজারে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং মজুদও কমে যাচ্ছে।
প্রায় তিন বছর ধরে বার্ষিক ৪ মিলিয়নের কাছাকাছি গতিতে বিক্রি চলছে, যা ঐতিহাসিকভাবে স্বাভাবিক ৫ দশমিক ২ মিলিয়নের চেয়ে অনেক নিচে। ২০২২ সালে বন্ধকী হার মহামারীর সর্বনিম্ন স্তর থেকে বাড়তে শুরু করার পর থেকেই মার্কিন আবাসন খাত মন্দার মধ্যে রয়েছে। গত বছর পুরনো বাড়ির বিক্রি প্রায় স্থবির ছিল, যা ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে আটকে ছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মাসগুলোতে বন্ধকী হার বেশিরভাগ সময়ই ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বিক্রি স্থবির রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়বে এমন প্রত্যাশা দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের ফলন বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ঋণদাতারা বাড়ি ঋণের মূল্য নির্ধারণে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করেন। ফলে বন্ধকী হার বেড়ে গেছে।
বাড়ির মজুদের পরিমাণও ঐতিহাসিক গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। গত মাসের শেষে ১৫ লাখ ৪০ হাজার অবিক্রিত বাড়ি ছিল, যা জুনের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ০ দশমিক ৬ শতাংশ কম। মহামারীর আগে যে প্রায় ২০ লাখ বাড়ি বিক্রির জন্য ছিল, তার চেয়ে এটি অনেক কম। জুলাইয়ের শেষে এই মজুদ বর্তমান বিক্রির গতিতে ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহের সমান। ঐতিহ্যগতভাবে, ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচিত হয় ৫ থেকে ৬ মাসের সরবরাহ।
আঞ্চলিকভাবে, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে মজুদের ঘাটতির কারণে বাড়ির দাম দেশের বাকি অংশের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ৫ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এনএআর আরও জানিয়েছে, জুলাই মাসে মোট বিক্রির ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা ক্রেতাদের, যা জুনে ছিল ৩৩ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ছিল ২৮ শতাংশ। ঐতিহাসিকভাবে, প্রথমবারের ক্রেতাদের অংশ প্রায় ৪০ শতাংশ।




