অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের ভেন্যু ডারউইনের টিআইও স্টেডিয়াম। এর আগে মাত্র দুটি টেস্ট হয়েছে এই মাঠে, শেষটি ২০০৪ সালে। এবারের টেস্টটি হবে ২২ বছর পর। স্টেডিয়ামটির অবস্থান আবালা রোডে, যার কাছেই ডিএক্সসি অ্যারেনায় গতকাল অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। হেঁটে গেলে দুই ভেন্যুর দূরত্ব মাত্র ৫-৬ মিনিটের। অনুশীলনের প্রথম দিনে ক্রিকেটাররা খুশি বলে জানা গেছে। বিসিবির ভিডিও বার্তায় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম বলেছেন, প্রথম দিনের অনুশীলন ভালো হয়েছে। উইকেট, ফিল্ডিং ও রানিং—সব ধরনের কাজই তারা করতে পেরেছেন।
জুলাই মাস ডারউইনের শীতলতম সময় হলেও এখন আগস্টে একটু একটু করে গরম পড়তে শুরু করেছে। গতকাল তাপমাত্রা ছিল ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। তবে আর্দ্রতা কম থাকায় দেশের শীতকালের গরমের মতোই লাগছে বলে দলের এক সদস্য জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ যাত্রাবিরতি শেষে দলের দ্বিতীয় অংশ গতকাল ডারউইনে পৌঁছেছে। আজ পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ডিএক্সসি অ্যারেনায় হবে এই অনুশীলন। ৮-১১ আগস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশের একমাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও এই মাঠে।
অস্ট্রেলিয়া পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামবে বলে জানা গেছে। প্রস্তুতি ম্যাচেও তারা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দিচ্ছে বাংলাদেশের সামনে। 'অস্ট্রেলিয়া একাদশ' নামে দলটিতে তিনজন টেস্ট ক্রিকেটার আছেন। স্যাম কনস্টাস ও কার্টিস প্যাটারসন দুটি করে এবং জশ ফিলিপ একটি টেস্ট খেলেছেন। তবে তারা কেউই বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দলে নেই।
এই সফরে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুই ভেন্যুর অচেনা পরিবেশ। ডারউইনের পর দ্বিতীয় টেস্ট হবে ম্যাকাইয়ে, যা ডারউইনের মতোই অভিষেক টেস্টের অংশ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ২০০৩ সালের সফরে বাংলাদেশ কেয়ার্নসে টেস্ট খেলেছিল, যা ছিল সেই ভেন্যুরও অভিষেক টেস্ট। কেয়ার্নসে এরপর আর মাত্র একটি টেস্ট হয়েছে, ২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
বর্তমান দলে ২০০৩ সালের ডারউইন টেস্ট খেলা কেউ নেই। তবে দুজন ক্রিকেটারের কাছে টিআইও স্টেডিয়াম অচেনা নয়। ২০২৪ সালের টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এইচপি দলের হয়ে চারটি ম্যাচ খেলেছিলেন ওপেনার তানজিদ হাসান। পরের বছর 'এ' দলের সঙ্গে একই টুর্নামেন্টে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন পেসার হাসান মাহমুদ।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ২০০৩ সালের টেস্ট দলে ছিলেন। তিনি জানান, ডারউইনের মাঠ টেস্ট ভেন্যু হিসেবে কেমন হতে পারে তার ধারণা দিতে পারেন। বাংলাদেশ দল টিআইও স্টেডিয়াম নিয়ে যথেষ্ট হোম ওয়ার্ক করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০০৩ সালের তুলনায় মাঠ খুব বেশি বদলায়নি। ড্রপ ইন উইকেটে বাউন্স সুষম, বল যথেষ্ট ওঠে। অর্থাৎ বোলার ও ব্যাটসম্যান সবার জন্যই সমান বন্ধুভাবাপন্ন হবে উইকেট, যাকে ক্রিকেটের পরিভাষায় 'ট্রু উইকেট' বলে। শুষ্ক আবহাওয়ায় এখানে রান হয় প্রচুর। তাপমাত্রা বেশি হলে উইকেট ফাটে, যা স্পিনারদের বাড়তি সুবিধা দেয়।
গত বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কার 'এ' দলের মধ্যে দুটি চার দিনের ম্যাচের স্কোরকার্ড একই ধারণা দিচ্ছে। ড্র হওয়া দুটি ম্যাচেই রান হয়েছে প্রচুর। ৬টি সেঞ্চুরি হয়েছে, যার একটি ডাবল। এ ছাড়া ১২টি ফিফটির মধ্যে ৯০-এর বেশি রান তিনটিতে, ৮০-৯০-এর মধ্যে তিনটি ইনিংস ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের দাপটে দুই ইনিংসও শেষ হয়নি।
মাঠে প্রবল বাতাস থাকে, বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর সময়ে। মাঠটা বেশ বড়, বিশেষ করে আড়াআড়ি সীমানার দিক দিয়ে। বাংলাদেশ দল এসব মাথায় রেখেই প্রথম টেস্টের পরিকল্পনা সাজাবে বলে জানা গেছে।

