প্রায় ১৫০ বছর অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে ফিরে এলো একটি হারিয়ে যাওয়া বই। বইটির বিষয়বস্তু ছিল প্রাচীন গ্রিসের পুরাকীর্তি। উপকূলীয় শহর কিয়ামার ওই গ্রন্থাগার থেকে এটি এত দিন পর ফেরত এলো এক অদ্ভুত স্থান থেকে— একটি ফায়ারপ্লেসের ইটের দেয়ালের আড়ালে চায়ের বাক্সের মধ্যে এটি আবিষ্কৃত হয়। সম্প্রতি নিজ বাড়ির সংস্কারকাজ চালাতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রস সিমন্স দেয়ালে ঘেরা ওই ফায়ারপ্লেসটি থেকে বইটি খুঁজে পান এবং গত সপ্তাহে সেটি গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

গ্রন্থাগারের ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন গত বৃহস্পতিবার এই অসাধারণ ঘটনার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এত পুরোনো সময়ের কোনো জিনিস আগে কখনোই তাদের কাছে ফেরত আসেনি। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ঘাঁটলে প্রায়শই এমন খবর চোখে পড়ে যেখানে কেউ পুরোনো বাড়ি বা সম্পত্তি পরিষ্কার করতে গিয়ে ৩০ বা ৪০ বছরের পুরোনো কোনো গ্রন্থাগারের বই পেয়ে থাকেন এবং তা ফিরিয়ে দেন। কিন্তু দেড় শতকের বেশি পুরোনো কোনো বই ফেরত পাওয়ার ঘটনা বিরল।

বাড়ির মালিক রস সিমন্স শুক্রবার বার্তা সংস্থা এপিকে তার অনুমানের কথা জানান। তার ধারণা, তার প্রপিতামহ জন সিমন্স এককালে গ্রন্থাগার থেকে বইটি ধার নিয়েছিলেন। কেননা, যে কটেজে বইটি উদ্ধার হয়েছে সেটির তৎকালীন মালিক ছিলেন তারই পূর্বপুরুষ। রস সিমন্স তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এটি শুধুই অনুমান, কারণ সেই আমলে তার প্রপিতামহ সেখানেই থাকতেন এবং তার সন্তানদের বয়সও ছিল খুবই অল্প।

গ্রন্থাগারটির যাত্রা শুরু হয় ১৮৭২ সালে। অন্যদিকে ‘অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স’ শিরোনামের বইটি তারও আগে, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থাগারের শুরুর দিককার সংগ্রহে থাকা প্রায় এক হাজার বইয়ের মধ্যে এটির তালিকা নম্বর ছিল ৫০৬। ব্যবস্থাপক হাডসনের বিশ্বাস, চালু হওয়ার কয়েক বছরের মাথারই কোনো একসময় বইটি নিখোঁজ হয়েছিল।

পানিতে ভেজায় বইটির কিছুটা ক্ষতি হলেও এটি ফিরে আসা একটি ইতিহাস। বর্তমান সময়ের মূল্যস্ফীতির হিসাবে বইটির বিলম্ব ফির জরিমানার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ২৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সমতুল্য। বইটির প্রচ্ছদে ভেতরের পৃষ্ঠায় তৎকালীন কিছু বিধিবিধানও মুদ্রিত ছিল।