সুস্থতার জন্য ক্যালোরি, চিনি ও তেলের হিসাব রাখলেও প্রোটিনের দিকে অনেকেই তেমন নজর দেন না। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রোটিনের ভূমিকা অপরিসীম। পেশি গঠন থেকে শুরু করে কোষ মেরামত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হরমোন উৎপাদন, ত্বক, চুল, নখ ও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ—সবকিছুতেই প্রোটিন প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে শরীর ধীরে ধীরে কিছু স্পষ্ট সংকেত দেয়, যা অনেকেই কাজের চাপ, বয়স বা ঘুমের অভাবে বলে এড়িয়ে যান। আসুন জেনে নিই সেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
প্রথমত, সব সময় ক্লান্ত লাগা। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সারাক্ষণ দুর্বলতা থাকে এবং ছোট ছোট কাজেই শক্তি ফুরিয়ে যায়, তবে তা প্রোটিনের ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। কারণ প্রোটিন শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে। এর অভাবে শরীর নিজের পেশি ভেঙে শক্তি সংগ্রহ করতে শুরু করে, যার ফলে দুর্বলতা ও অবসন্নতা বাড়ে।
দ্বিতীয়ত, ব্যায়াম করেও পেশি গঠনে ব্যর্থতা। নিয়মিত জিমে গেলেও যদি প্রত্যাশিত ফল না পান, তাহলে প্রোটিনের ঘাটতি হতে পারে। ব্যায়ামের পর পেশি পুনর্গঠনের জন্য শরীরের পর্যাপ্ত প্রোটিন দরকার। খাবারে প্রোটিনের উপস্থিতি নিশ্চিত না করলে কষ্টার্জিত পরিশ্রম বৃথা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, চুল পড়া ও নখ ভেঙে যাওয়া। চুল ও নখের প্রধান উপাদান প্রোটিন। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে চুল পাতলা হয়ে যায়, নখ দুর্বল হয়ে ভেঙে যায় এবং ত্বক শুষ্ক ও উজ্জ্বলতাহীন দেখায়।
চতুর্থত, খাওয়ার পর অল্প সময়েই আবার ক্ষুধা লাগা। ভাত বা রুটি খেয়েও যদি দ্রুত ক্ষুধা ফিরে আসে, তবে বুঝতে হবে খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ কম। প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, অন্যদিকে শর্করাভিত্তিক খাবার দ্রুত হজম হয়ে ক্ষুধা বাড়ায়। সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবারে ডিম, মাছ, ডাল, টক দই বা ছোলার মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে অনেকক্ষণ তৃপ্তি পাওয়া যায়।
পঞ্চমত, মেজাজের ওঠানামা ও মনোযোগ কমে যাওয়া। প্রোটিন থেকে তৈরি অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিষ্কের রাসায়নিক বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে, মনোযোগ কমে যেতে পারে, অস্থিরতা ও বিষণ্ণতাও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের প্রতিটি প্রধান খাবারে প্রায় ৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখা ভালো, যা দিনে প্রায় ৯০ গ্রাম প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। তবে বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর ভিত্তি করে এই চাহিদা কম-বেশি হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রোটিনের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, টক দই, পনির, মসুর ডাল, ছোলা, সয়াবিন, বিভিন্ন বাদাম ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার। যতটা সম্ভব প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করা শরীরের জন্য বেশি উপকারী।
শরীর কখনো হঠাৎ অসুস্থ হয় না; আগেই বিভিন্ন সংকেত পাঠায়। দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি, অতিরিক্ত চুল পড়া, বারবার ক্ষুধা লাগা বা ব্যায়ামের ফল না পেলে অবহেলা না করে খাদ্যাভ্যাসে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করেই গড়ে ওঠে সুন্দর ত্বক, শক্তিশালী শরীর, সুস্থ মন ও প্রাণবন্ত জীবন।




