দেশে নগদবিহীন লেনদেন ব্যবস্থা জোরদার করতে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই প্রণোদনার ফলে সেবা বিস্তারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ কমার পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের ওপর থেকে মাশুলের বোঝাও লাঘব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, যা আজ সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি) থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের ৪৫১তম সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলা কিউআর লেনদেন সম্প্রসারণের জন্য ১০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা তহবিল অনুমোদন করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিপর্যায়ে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা বা সেবা প্রদানকারীদের দোকানে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে এই তহবিল থেকে প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এর আওতায় যে ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট পয়েন্টে কিউআর কোড স্থাপন করেছে, সেই একুয়ারিং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের ০.১০ শতাংশ প্রণোদনা পাবে। অপরদিকে, যে ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহক অর্থ পরিশোধ করছেন, সেই ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান লেনদেনের ০.২০ শতাংশ প্রণোদনার সুবিধা পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নগদবিহীন পেমেন্ট ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে বাংলা কিউআর একটি কার্যকর মাধ্যম হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে এর ব্যবহারে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের মুনাফার মার্জিন কম হওয়ায় তাঁরা লেনদেনের ১ থেকে ১.১৫ শতাংশ মাশুলকে আর্থিকভাবে বোঝা মনে করেন, ফলে ডিজিটাল মাধ্যমের পরিবর্তে নগদ লেনদেনকেই তারা বেশি প্রাধান্য দেন। টেকসই ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রাথমিক পর্যায়ে এসব ব্যবসায়ীকে মাশুল খাতে সহায়তা দেওয়ার জন্যই মূলত এই প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে ট্রেড লাইসেন্সধারী রিটেইল হিসাব বাংলা কিউআরে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পর প্রায় ২৪ লাখ ব্যবসায়ী এই ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছেন। তবে গ্রাহক ও মার্চেন্ট পর্যায়ে বাংলা কিউআর সম্প্রসারণের প্রধান প্রতিবন্ধকতা ছিল লেনদেন মাশুল। এতদিন ১ থেকে ১.১৫ শতাংশ মাশুলের মধ্যে ০.৩৫ থেকে ০.৭০ শতাংশ ‘ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি’ বা আইআরএফ হিসেবে গ্রাহকের আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হতো, ফলে কিউআর কোড স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়ীদের মাশুল কমাতে পারত না। নতুন সিদ্ধান্তে আইআরএফ সম্পূর্ণ শূন্য করার ফলে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হবে এবং ব্যবসায়ীদের মাশুল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রণোদনার অপব্যবহার ঠেকাতে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বেশি প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো বড় লেনদেনকে ভেঙে একাধিক ছোট লেনদেনে পরিণত করা যাবে না। সেই সঙ্গে ব্যর্থ, ফেরত, চার্জব্যাক কিংবা বিরোধপূর্ণ লেনদেনগুলোর বিপরীতে কোনো প্রণোদনা প্রদান করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।